১৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ১৮:৪১
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী পাল্লাতল পানপুঞ্জির খাসিয়ারা তাদের পানজুম থেকে উচ্ছেদের আতঙ্কে রয়েছেন। ভারত-বাংলাদেশের চুক্তি অনুযায়ী যৌথ জরিপে পানজুমটি ভারতের অংশে পড়ে যাওয়ায় এ আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পানপুঞ্জির বাস্তবতা সরেজমিনে দেখতে গত মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) পানপুঞ্জি পরিদর্শন করেছেন একটি নাগরিক প্রতিনিধি দল। এসময় তাঁরা পুঞ্জির খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথেও কথা বলেন। প্রতিনিধি দল পুঞ্জি এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মানবিক বিবেচনায় আদিবাসীদের অধিকার সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে পাল্লাতল গেলে প্রতিনিধি দল ও পুঞ্জির আদিবাসীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পাল্লাতল পানপুঞ্জির আদিবাসী খাসিয়া ও গারো সদস্যরা সেখানে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতের অপদখলীয় জায়গায় যৌথ জরিপ হয়েছে। এসময় পাল্লাতল পুঞ্জি এলাকা বাংলাদেশের অংশে এবং পাল্লাতল আদিবাসীদের আয়ের উৎস পানজুম ভারতের অংশে পড়েছে। এতে পাল্লাতল পানপুঞ্জির আদিবাসী ৫০টি পরিবারের মধ্যে জীবন-জীবিকা নিয়ে চরম উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য, মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়া উদ্দিন তারিক আলী, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড: নূর মোহাম্মদ তালুকদার, আদিবাসী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দীপায়ন খীসা, আদিবাসী সংগঠন কুবরাজের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং প্রমুখ।
পানপুঞ্জির বাসিন্দা শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র জনবক খংলা বলেন, ‘পান পুঞ্জিতে যেতে আগে সমস্যা হতো না। আমাদের অভিভাবকরা জুমের আয় দিয়ে পরিবার ও আমাদের পড়ালেখার খরচ চালাতেন। এক মাত্র আয়ের উৎস পান জুম চলে যাওয়ায় আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় আছি। সত্যিই আমাদের জুমগুলো চলে গেলে পেটে খানি জুটতো নায়’
কথা হয় ডিমন বারেং নামে এক খাসিয়া তরুণীর সাথে, তিনি বলেন ‘দীর্ঘকাল থেকে এই পুঞ্জিতে কাজ করে আমাদের সবার জীবন চলছে। এখন শুনছি ভারতে পুঞ্জির জায়গা চলে যাচ্ছে। পুঞ্জি ভারতে চলে গেলে কাজ করবো কোথায়। অসহায় হয়ে পড়বো এই আশংকায় আছি আমরা।’
আদিবাসী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দীপায়ন খীসা বলেন, খাসিয়ারা অনেক বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন। আমরা ভারত ও বাংলাদেশের চুক্তিতে দেখেছি জরিপে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা বিবেচনা করা হবে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের জরিপে সেটা অনুসরণ করা হচ্ছে না। কিন্তু এখন খাসিয়াদের জীবিকার মূল উৎসাটা কোন না কোনভাবে ভারতে চলে যাচ্ছে। এতে খাসিয়াদের জীবন-জীবিকার সংকট তৈরি হচ্ছে। মানবিক বিবেচনায় জুম রক্ষার বিষয়টি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে ভাবা দরকার।
আদিবাসী নেত্রী ফ্লোরা বাবলী তালাং বলেন, আমরা ভারত ও বাংলাদেশের চুক্তি পড়ে দেখেছি জরিপে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা বিবেচনা করা হবে। তারা যাতে তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় বিষয় সঠিকভাবে পালন করতে পারে সেটা দেখার কথা চুক্তিতে আছে। আমাদের দাবি চুক্তি অনুয়ায়ী জরিপ করা হোক। খাসিয়াদের জীবনজীবিকার স্বার্থে পান জুমটা রক্ষা করা করতে হবে।
ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘চুক্তিতে কোনো জনগোষ্ঠীর সম্মতি ছাড়া তাদের জীবন-জীবিকা হস্তান্তর না করার কথা থাকলেও আদিবাসীদের জীবিকার জায়গা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এখানকার আড়াইশ মানুষ যাবে কোথায়!
তিনি আরও বলেন, এই পানপুঞ্জি ভারতে চলে গেলে এদের অস্তিত্ব থাকবে না। এখানে মানবাধিকারের লঙ্ঘন করা হচ্ছে। রাষ্ট্র তাদের অধিকার কেড়ে নিতে পারে না।
আপনার মন্তব্য