এস আলম সুমন, কুলাউড়া:

১৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ২১:১৪

কুলাউড়ার শুকনাছড়া নদীতে চলছে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ ও অবৈধ দখল

পুনঃখননসহ নদীর উৎস মুখে স্লুইস গেট নির্মাণের দাবি

কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা, কর্মধা ও রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শুকনাছড়া নদীটির বিভিন্ন জায়গায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে চলছে মাছ চাষ ও অবৈধ দখল। ফলে নদীটি স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়ে হারাচ্ছে নাব্যতা এবং সাধারণ কৃষক ও এলাকাবাসী বঞ্চিত হচ্ছেন এর সুফল থেকে। দখল এবং নদীর ওপর অবৈধ বাঁধ নির্মাণের জন্য নদীটি আজ মৃতপ্রায়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বিনন্দিবীল থেকে শুকনাছড়া নদীটি উৎপন্ন হয়ে দীর্ঘ প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রাউৎগাঁওয়ের পালগ্রাম নামক স্থানে ফানাই নদীর সাথে মিশেছে। দখলদাররা অবৈধভাবে বিভিন্ন জায়গায় নদীর পাশ দখল করে নির্মিত করছে দোকান ও বসত-বাড়ি।

বেরী এলাকার ব্রিজের নিকটে পাকা দালানের দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে পানির গতিপথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ভাটগাঁও পুরসাই এলাকার সমছু মিয়া বলেন, নদীতে প্রায় ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণ ইউপি সদস্যের ভাইসহ এলাকার অনেকে মাছ চাষ করছেন। গণিপুরে প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে ১৮ জনের সমিতি করে নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। কানিকিয়ারী ও মনসুরপুর ঈদগাহ এলাকায়ও বাঁধ দিয়ে চলছে মাছ চাষ। এছাড়াও ঘড়গাঁও ও বাড়–য়াকান্দি এলাকায় নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে ব্রিক ফিল্ডের ইট তৈরিতে।

এলাকাবাসীরা জানান, শুকনাছড়া নদীর দু’পাশে রয়েছে হাজার একর জমি যা রবিশস্য ও বোরো চাষের উপযোগী। কিন্তু অবৈধ বাঁধ ও দখলের কারণে শুস্ক মৌসুমে রবি শস্যসহ বোরো চাষিরা এ নদীর পানি থেকে হচ্ছেন বঞ্চিত। আবার বৃষ্টির মৌসুমে নদী দিয়ে সহজে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে মূল্যবান ফসলাদি নষ্টসহ ঘর-বাড়ি প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। তারা আরও জানান, অচিরেই সরকার এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করে নদীটি খনন করে মনু নদীর সাথে সংযোগ স্থাপন করে স্লুইস গেট নির্মাণ করলে এলাকার হাজার হাজার একর জায়গা চাষাবাদের আওতায় আসবে।

কর্মধার বেরী গ্রামের বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ না করা হতো তাহলে তারা রবিশস্য ও বোরো ক্ষেত করতে পারতেন। বাঁধ দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে মাছ চাষে এলাকার লোকের লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হচ্ছে। তাই নদীটি খননসহ অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা প্রয়োজন। এলাকার বাম রাজনীতিবিদ কমরেড আব্দুল আহাদ বলেন, বর্তমানে লোকজন প্রতিনিয়ত নদী, খাল, জলাশয় দখলের মহোৎসবে মেতেছে। নদী, খাল, বিল না থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। নদীটি অচিরেই দখলমুক্ত করে খননের মাধ্যমে মনু নদীর সাথে সংযোগ করে দিয়ে একটি স্লুইস গেট নির্মাণ করে দিলে দু’পাশের কৃষকরা উপকৃত হবে।

লংলা আধুনিক ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, শুকনাছড়া নদীর একটি অংশে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সগীর আলীর কবর রয়েছে, যার অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সগীর আলীর কবর রক্ষাসহ নদী থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা অচিরেই প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে পৃথিমপাশা ইউপি চেয়ারম্যান কমরেড আব্দুল লতিফ , নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের ব্যাপারটা তাঁর জানা নেই তবে নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা অবৈধ। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
কুলাউড়া মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বলেন, নদীতে বাঁধ দিয়ে বা খাটি বসিয়ে মাছ চাষ বা নিধন বেআইনি। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।

কুলাউড়া  উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলমগীর হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে খোঁজ নিয়ে বাঁধ কেটে দিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) প্রকাশ কান্তি চৌধুরী বলেন, কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি

আপনার মন্তব্য

আলোচিত