শাকিলা ববি, হবিগঞ্জ

২০ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ০১:১০

বাহুবলে ৪ শিশু খুন: নির্দেশ দেন আলী, কিলিং মিশনে অংশ নেয় ছয় জন

নির্দেশ দেন আব্দুল আলী। আলীর নির্দেশেই তাঁর ছেলেরাসহ ৬ জন অংশ নেয় হত্যাকান্ডে। এই ছয়জন মিলে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রটিকি গ্রামের চার শিশুকে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি শিশুদের বাড়ি পৌছে দেওয়ার কথা বলে অপহরণ করা হয়। তারপর একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়া হয় পাশ্ববর্তী এক গ্যারেজে। সেখানেই চেতনানাশক দ্রব্য প্রয়োগে অজ্ঞান করে রাতে চারজনকে শ্বাসরোধ ও বুকে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ওই রাতেই হত্যাকারীরা মরদেহ গ্রামের পাশের একটি হাওরে বালুর গর্তে লাশ চাপা দিয়ে রাখে।’

আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ৪ শিশু হত্যার এমন রোহমর্ষক দিয়েছে রুবেল মিয়া (১৭)। রুবেল আব্দুল আলীরই ছেলে। যে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

শুক্রবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত আদালতে জবানবন্দি দেয় রুবেল।

হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহম্মদ খন্দকারের আদালতে এ জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দি শেষে রুবেল মিয়া ও বাকি দুই আসামি কারাগারে পাঠান বিচারক।

হত্যাকান্ডে জড়িত ৬ জনের মধ্যে- বাহুবলের সুন্দ্রাথিকি গ্রামে আব্দুল আলী ওরফে বাগলের ছেলে রুবেল মিয়া (১৭), আরজু মিয়া (২০) ও সিএনজি অটোরিকশা চালক বাচ্চু মিয়ার (২৫) নাম প্রকাশ করেছে পুলিশ।

রাত সোয়া ৮টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান এসপি জয়দেব কুমার ভদ্র।

তিনি জানান, এক মাস আগে এ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করে ঘাতকরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদেরকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।

সুন্দ্রাটিকি গ্রামের গ্রাম পঞ্চায়েত আব্দুল আলী ওরফে বাগল মিয়ার সঙ্গে নিহত শিশুদের অভিভাবকদের পক্ষের পঞ্চায়েত খালেক মিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। মাসখানেক আগে গ্রামের একটি বড়ইগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে বাগল মিয়ার সঙ্গে খালেক মিয়ার আবারও দ্বন্দ্ব হয়। এর পর থেকেই ৪ শিশুকে হত্যার পরিকল্পনা নেয় পঞ্চায়েত আব্দুল আলী ওরফে বাগল মিয়া।

এসপি জয়দেব ভদ্র আরো জানান- হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রুবেলের সঙ্গে আটক আরজু ও বশিরকে শুক্রবার সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করলে বন্ধের দিন থাকায় বিচারক শুনানি নেননি। বিচারক সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) শুনানির দিন ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের সুন্দ্রাটিকি গ্রামের মো. ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), তার চাচাত ভাই আব্দুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) ও আবদাল মিয়ার ছেলে মনির মিয়া (৭) এবং তাদের প্রতিবেশী আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাঈল হোসেন (১০)। গত বুধবার সকালে বালুচাপা অবস্থায় তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় বুধবারই দুই আসামী আব্দুল আলী ও তার ছেলে জুয়েল আহমদকে আটক করে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত