২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ১৬:২৯
কেবল রাজধানীতেই ১ লক্ষ ২৬ হাজার সমকামী জুটি রয়েছে। পুরো দেশ হিসেব করলে এই সংখ্যা আরো বেশি হবে। তবে সামাজিক অবস্থার কারণে ঢাকার বাইরের সমকামীদের সঠিক সংখ্যা জানা যায় না।
বৃহস্পতিবার সিলেট নগরীতে আয়োজিত একটি সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। নগরীর একটি হোটেলের সেমিনার কক্ষে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত এ সেমিনারটির আয়োজন করে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা বন্ধু।
'ভয়েস অব সেস্কুয়াল মাইনোরিটিস ফর সোশ্যাল জাস্টিস এন্ড ইকুয়াল রাইটস; মিডিয়া রেসপন্স এন্ড রেসপনসিবিলিটস' শীর্ষক এই সেমিনারে হিজড়া সম্প্রদায় এবং সমকামীদের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। তাদের সম্পর্কে সমাজের নেতিবাচক ধারণ দূর করতে সাংবাদিকদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইটিভির বিশেষ প্রতিনিধি অখিল পোদ্দার। তিনি বলেন, কে কাকে ভালোবাসবে, এ কাকে বিয়ে করবে এটা তাঁর নিজস্ব ব্যাপার। সমলিঙ্গের কাউকেও মানুষ ভালোবাসতে পারে। সমকামিতা একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি।
অখিল বলেন, কে কার সাথে যুদ্ধ করবে তা নিয়ে যুদ্ধ করার দিন শেষ। বিশ্বের অনেক দেশই এখন সমকামীতাকে বৈধতা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা কাউকে সমকামে উৎসাহিত করছি না। তবে এই কারণে কাউকে যাতে আঘাত প্রাপ্ত না হয়, বৈষম্যের শিকার না হয়, সেদিকে সাংবাদিকদের লক্ষ্য রাখতে হবে।
তিনি বলেন, এসব ইস্যুতে ধর্মের নাম করে অনেকে বিভ্রান্তি ছড়ান। বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা হয়েছে। অনেক ব্লগারকে হত্যা করা হচ্ছে। এসময় লালনের গানের কলি, 'পাপ পূণ্যের কথা আমি কাহারে শুধাই' উল্লেখ করে অখিল বলেন, সমকামীতা খুবই ন্যাচারাল বিষয়। কারো মনে সমলিঙ্গের প্রতি প্রেম জাগতেই পারে।
হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রতিও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে সাংবাদিকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
অখিল বলেন, ফেসবুকে একাউন্ট করার সময় মেইল না ফিমেইল তা জানাতে হয়। সম্প্রতি ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গকে উকিল নোটিশ দেওয়া হয়েছে, মেইল-ফিমেলের পাশাপাশি হিজড়াদের জন্যও আলাদা কোটা রাখার জন্য। সারাবিশ্ব জুড়েই এদের ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। আমাদেরও দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে।
সেমিনারে বন্ধু'র প্রশিক্ষণ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, হিজড়া সম্প্রদায়ের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। সমাজ থেকে দূরে ঠেলে দেওয়ার কারনেই তারা বিভিন্ন সময় সমাজবিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে এই জনগোষ্ঠিকে সমাজের মূলস্রোতে জায়গা করে দিতে হবে।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন বন্ধু'র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ফসিউল আহসান।
আপনার মন্তব্য