বানিয়াচং প্রতিনিধি

০৩ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৪৬

বানিয়াচংয়ে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে বীমাকর্মী উধাও

বানিয়াচংয়ে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড(ইসলামী বীমা তাকাফুল) এর বানিয়াচং এরিয়ার মাঠকর্মী মোহাম্মদ আলী ওরফে ভুট্রো ১৫০জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে বলে জানা গেছে। বীমাকর্মী ভুট্রো বানিয়াচং সদরের আমিরখানী মহল্লার মৃত তারিফ মাষ্টারের পুত্র।

জানা যায়, এলাকার ছেলে বলে ভুট্রো ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সহজ সরল মানুষদের কাছ থেকে মোটা অংকের লাভ দেখিয়ে বাৎসরিক হারে ৪ থেকে ৫হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতি গ্রাহকের নিকট থেকে ভুয়া রশিদের মাধ্যমে টাকা নেয়। প্রথম দিকে কিস্তির টাকা মেঘনা লাইফের হবিগঞ্জ জোনাল অফিসে জমা দিলেও পরবর্তীতে আর কোন টাকাই জমা দেয়নি বলে ভুক্তভোগী সাহেদ আলী,শাহিদা আক্তার,যুক্তনমালা,আবা বেগম,আজিজুল মিয়া,করিম উল্লা,ময়না মিয়া জানান।

তারা আরও জানান, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায় ভুট্রো। পরে অনেক খোঁজাখুজির পরেও তাকে অদ্যবধি পর্যন্ত তার কোন হদিস পাওয়া যায়নি। তার নিজের বানানো রশিদ দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেয়। একই এলাকায় তার বোনের বাড়ি হওয়ায় বোনের জামাইর দোহাই দিয়ে বিভিন্ন সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে পার পেয়ে যায়।তার দুলাভাই ইউনুছ মিয়া বর্তমানে একটি চাঁদাবাজির মামলায় জেল হাজতে রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানায়।

বেশ কিছু দিন আগে এলাকার মন্নান,রুমনমিয়া সহ আরও অনেকে ভুট্রোকে পেয়ে আটক করলে সে ১৫দিন পরে টাকা ফেরত দিবে বলে সময় নেয়।কিন্তু আজ পর্যন্ত টাকা তো দুরের কথা তার ই খবর নেই।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,ভুট্রো প্রথম দিকে কয়েক কিস্তির টাকা আমাদের অফিসে জমা দেয়।পরবর্তীতে আর কোন টাকা জমা দেয়নি। তার দেয়া রশিদের সাথে আমাদের রশিদের কোন মিলও নেই।

এতেই বুঝা যায় সে গ্রাহকের টাকা গুলো জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। একজন ব্যক্তির দায়ভার তো পুরা অফিস নিতে পারেনা বলে তিনি জানান।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত