নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ মার্চ, ২০১৬ ০১:১২

পটকা ফুটলো না, মিছিল হলো না- ভেস্তে গেলো উৎসব আয়োজন

পুরো নগর তন্নতন্ন করে পটকা সংগ্রহ করেছিলেন জল্লারপাড়ের সুয়েব আহমদ। বিজয়ের পরপরই পটকা ফুটিয়ে উৎসব করবেন। প্রস্তুতি ছিলো এমনই। সেটা আর হলো না। ফাইনালে হেরে গেলো বাংলাদেশ।

বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই মিছিলের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন লামাবাজার এলাকার কলেজ ছাত্র আরিফুল ইসলাম। বন্ধুদের যাদের মোটরসাইকেল রয়েছে তাদের বলে দিয়েছিলেন জয়ের সাথে সাথেই যেনো সবাই বেরিয়ে পড়ে। লামাবাজার পয়েন্টে জড়ো হয়। সবাইকে পতাকা নিয়ে আসার কথাও বলেছিলেন।

আরিফদের মিছিলও আর বের হলো না। একটি পরাজয় ব্যর্থ করে দিলো উৎসবের এমন নানা আয়োজন।

সিলেট নগরজুড়ে্ই নেওয়া হয়েছিলো উৎসবের এমন নানা প্রস্তুতি। রোববারের ফাইনালে জিতলেই শুরু হবে উৎসব। বিজয় মিছিল হবে, শ্লোগানে-শ্লোগানে প্রকম্পিত হবে রাজপথ, হবে পটকা উৎসব।

কতকিছুরই প্রস্তুতি ছিলো। কিছুই হলো না। ম্যাচ শেষে যথারীতি নীরব-নিস্তব্ধ রাতের শহর।

একটি খেলা কিভাবে বিনেসুতোয় বাংলাদেশকে এক করে দিতে পারে তার প্রমাণ বারবারই দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। রোববার তার আরেকটি প্রদর্শনী হলো। শেষটা ভালো হলো না বটে। তবে তাতে মোটেই হতাশ নন টাইগার সমর্থকরা। বরং আগামী দিনে হবে এমন আশায়ই বুক বাঁধছেন দর্শকরা।

নগরীর অন্তত ১২ থেকে ১৩ টি স্থানে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখার আয়োজন করা হয়। বৃষ্টিতে যখন খেলা শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছিলো তখন সমর্থকদের সে কী হতাশা। মাঠে খেলেই জিততে চান সবাই। বৃষ্টির বদান্যতায় শিরোপা ভাগাভাগিতে রাজি নন কেউই। র‍্যাংকিংয়ে এক নম্বরে থাকা দলটিকে খেলে হারাতে চান, পয়েন্ট ভাগাভাগিতে সম্মত নন- এমন স্পোটিং দর্শক আর কোথায় আছে?

দর্শকদের এই স্পোর্টিং মনোভাবের পরিচয় পাওয়া গেলো খেলা শেষেও। দল হেরেছে। উৎসবের বিরাট আয়োজন সত্ত্বেও হতাশ নন কেউই। নেই কোনো ক্ষোভ। একটু অতৃপ্তি আছে, এই যা!

যেমন ধরা যাক সুয়েবের কথাই, বিজয় উৎসবের জন্য সংগ্রহ করা পটকা ম্যাচ হারার পরও ফুটাতে লাগলেন সুয়েব। তার মতে, এই পরাজয়ও উদযাপনের। এশিয়ার দুই বৃহৎ শক্তিকে হারিয়ে বাংলাদেশ তো ফাইনালে উঠেছে। এটাই বা কম কিসে। আগামীতে নিশ্চয়ই শিরোপাও জয় করবে টাইগাররা।

এমন সান্ত্বনা খোঁজে পাচ্ছেন শিবগঞ্জের আসিফ, রিয়াদ, কামরুল, মিলাদরা। বন্ধুরা মিলে খাসি জবাই করেছিলেন। খাবার দাবারের আয়োজন করেছিলেন। দল জিতলে উৎসব করে খাওয়া হবে। দল জিতলো না। উৎসব হলো না। তবে খাবার দাবার ঠিকই হলো।

এই বন্ধুদলের কামরুল বলেন, হেরেছি তাতে হতাশার কিছু নেই। ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছি তো। আগে বাংলাদেশ টি২০ খেলতে পারতো। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ জানান দিলো টি২০ তেও তারা শক্তিশালী দল। এই প্রাপ্তিই কম কিসের!

এই রিপোর্ট যখন লিখছি তখন রাত ১টা্। বাংলাদেশ জিতলে এখন নিশ্চয়ই মিছিলে মিছিলে মুখর থাকতো রাজপথ। এখন নিশ্চয়ই শ্লোগান, পটকা, গাড়ির হর্নের শব্দে ভেঙ্গে পড়তো রাতের নিস্তব্ধতা। সকালেই অফিস দৌড়াতে হবে, এই বাস্তবতা ভুলে নিশ্চয়ই অনেকেই নেমে আসতো রাতের রাস্তায়।

এসব কিছুই হলো না। কিন্তু এই টুর্নামেন্টে যা হলো, টি২০ তে নিজেদের জানান দেওয়া, তা-ই বা কম কীসে! এটিকেই বড় প্রাপ্তি মনে করছেন সমর্থকরা। এই প্রাপ্তিটুকু নিয়েই সোমবার ভারতের রওয়ানা দিবে বাংলাদেশ। লক্ষ্য টি২০ বিশ্বকাপ।

আবার সমর্থকরা আশায় বুক বাঁধবেন। আশা তো করা যেতেই পারে, টি২০ তো বাংলাদেশ আর ফেলনা দল নয়। এটা তো এই এশিয়া কাপেই সকলকে জানিয়ে দিতে পেরেছে মাশরাফিবাহিনী।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত