২৫ এপ্রিল, ২০১৬ ১৮:২৩
তনু হত্যাসহ অব্যাহত গুম-খুন-ধর্ষণঅবিলম্বে তনুসহ সারা দেশে সংগঠিত সকল নারী ও শিশু হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে অর্ধদিবস হরতাল পালন করে প্রগতিশীল ছাত্র জোট ।
সোমবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৬ থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত হরতাল পালিন হয় ।
হরতাল উপলক্ষে ছাত্র জোটের নেতা কর্মীরা ভোর ৬টা থেকেই হরতালের সমর্থনে বিভিন্ন স্থানে মিছিল-সমাবেশ এবং পিকেটিং শুরু করেন।
বেলা ১১.৩০টায় বিভিন্ন পয়েন্টে পিকেটিংরত ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা সিলেট কোর্ট পয়েন্টে জড়ো হয়ে হরতালের সর্বশেষ মিছিল শুরু করেন, মিছিলটি জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা- আম্বরখানা হয়ে পুনরায় কোর্ট পয়েন্টে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর শাখার সভাপতি রেজাউর রহমান রানার সভাপতিত্বে এবং ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাশগুপ্তের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলার সভাপতি সর্প্তষী দাশ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রুবাইয়াৎ আহমেদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট শাবিপ্রবি শাখার আহবায়ক অপু কুমার দাশ, ছাত্র ইউনিয়ন শাবি শাখার সভাপতি স্বপন কুমার দাশ,সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট মহানগর শাখার সহ-সভাপতি আজহারুল হক চৌধুরী সাকিব, ছাত্র ফ্রন্ট এম.সি কলেজ শাখার সংগঠক আল আমিন, ছাত্র ইউনিয়ন মদন মোহন কলেজ শাখার সংগঠক মোঃ নাবিল প্রমুখ। প্রগতিশীল ছাত্র জোটের এই হরতালে সংহতি জানায়, বাসদ (মার্কসবাদী), সিপিবি, বাসদ এবং বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র সিলেট জেলা শাখা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের সবচেয়ে নিরাপত্তা বেষ্ঠিত অঞ্চল ক্যান্টনমেন্টের ভেতর সোহাগী জাহান তনুর হত্যাকান্ডের প্রায় মাসখানেক অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার তো দূরের কথা চিহ্নিতই করতে পারেনি সরকার কিংবা প্রশাসন। অথচ তনুর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানী এবং ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ উঠেছে,আবার সরকারের কর্তাব্যাক্তিদের বক্তব্য এবং তদন্তের নামে দীর্ঘসূত্রিতা প্রচ্ছন্নভাবে অপরাধীদের উৎসাহ যোগাচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু তনু হত্যাকান্ড নয় বাস্তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ দেশের সর্বত্র এই রকম যৌন নিপীড়ন অব্যাহত মাত্রায় ঘটে চলেছে, অথচ প্রায় কোন ঘটনারই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি সরকার। এমনকি গত বছরে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে দেশের বিবেক বলে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, জগন্নাথ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নির্যাতনের ঘটনার কোন বিচার করতে পারেনি সরকার। তাই একের পর এক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার দায় সরকারকেই বহন করতে হবে। বাস্তবে পুঁজিপতি শ্রেণীর মুনাফার স্বার্থে অবাধে চলছে ভোগবাদী সংস্কৃতির ব্যাপক প্রচার, পত্র-পত্রিকায়, নাটকে-সিনেমায় নারীকে উপস্থাপন করা হচ্ছে পণ্য রূপে, যা অতীতের সকল মানবিক মূল্যবোধের আধারকেই ধ্বসিয়ে দিচ্ছে। আর সরকার কিংবা প্রশাসন এই মুনাফার স্বার্থেই দেশের শাসনকার্য পরিচালনা করছে। ফলে নানা ভাবে নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের প্রশ্রয় যেমন দিচ্ছে একইভাবে সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল গড়ে তুলছে। তাই এরকম ঘটনা অব্যাহতভাবে ঘটে চলেছে। এর বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনতার ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে সরকারকে বাধ্য করতে হবে এবং এর সাথে সাথে একটি উন্নত সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল নির্মিত করতে হবে।
বক্তারা সারাদেশে অর্ধদিবস হরতালে ব্যাপক পুলিশি নির্যাতন, গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানান এবং এর প্রতিবাদে আগামীকাল ২৬ এপ্রিল কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল সফল করার আহ্বান জানান। সাথে সাথে হরতাল সফল করার জন্যে সিলেট বাসীকে নেতৃবৃন্ধ অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ জানান
আপনার মন্তব্য