২৮ এপ্রিল, ২০১৬ ১৭:৫০
লাইসেন্স ছাড়াই মাংস বিক্রি করছে সুপার শপ স্বপ্ন। চিকিৎসকদের দ্বারা পরীক্ষাও করানো হয় না মাংস। এছাড়া নগরীর প্রখ্যাত মাংস বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান বংগাই মিয়ার মাংসের দোকানে বিক্রি হচ্ছে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত গরুর মাংস।
বৃহস্পতিবার সিলেট সিটি করপোরেশন পরিচালিত মোবাইল কোর্টের অভিযানে এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১ এর অধীনে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বৃহস্পতিবার এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মোঃ শরীফুজ্জামানের নেতৃত্বে এই অভিযানকালে বিশেষজ্ঞ মতামত ও প্রাথমিক পরীক্ষার জন্য উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি অফিসার ডাক্তার মোহাম্মদ মাহবুব আলম।
বেলা ১১টায় প্রথমেই সিলেট মহানগরীর পূর্ব জিন্দাবাজার বারুতখানা ব্র্যান্ড সপ ‘স্বপ্ন’তে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে দেখা যায় স্বপ্ন-তে রাখা মাংসতে কোন সিল নেই, ডাক্তার দ্বারাও তা পরীক্ষিত না।
এসময় ডাক্তার মোহাম্মদ মাহবুব আলম ‘স্বপ্ন’তে বিক্রির জন্য রাখা গরুর কলিজা প্রাথমিক পরীক্ষা করার পর তা খাবারের অনুপোযোগী থাকায় জব্দ করে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য স্থানীয় ল্যাবরেটরিতে প্রেরণ করেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে ‘স্বপ্ন’র বারুতখানা শাখার ম্যানেজার সুলতানা বেগম মাংস বিক্রির লাইসেন্সও দেখাতে পারেননি। এসময় বারুতখানা স্বপ্ন’কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
‘স্বপ্ন’ এর বারুতখানা শাখার ম্যানেজার সুলতানা বেগম মোবাইল কোর্টকে জানান, বন্দরবাজার সংলগ্ন সন্ধ্যাবাজারের ভাই ভাই মাংসের দোকান থেকে তাদেরকে মাংস সরবরাহ করা হয়। এই মাংস ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষিত কিনা তা তাদের জানা নেই বলেও তিনি স্বীকারোক্তি দেন। মোবাইল কোর্ট পরবর্তীতে সন্ধ্যা বাজারে গিয়ে ‘স্বপ্ন’ থেকে প্রাপ্ত স্লিপ দেখালে তারা (ভাই ভাই মাংসের দোকান) স্বীকার করেন যে, তারা ‘স্বপ্ন’তে মাংস সরবরাহ করে থাকেন এবং তারা স্বীকারোক্তি দেন যে, তাদের সরবরাহকৃত মাংস কোন ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করা হয়নি বা কোন সিলও দেওয়া হয়নি।
অভিযানকালে মোবাইল কোর্ট দেখতে পায়, ভাই ভাই মাংসের দোকানের মাংস বিক্রির কোন লাইসেন্স নেই।
এসময় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মোহাম্মদ মাহবুব আলম ভাই ভাই মাংসের দোকানের কসাইখানা পরিদর্শন করেন এবং সেখানে একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক বাছুর পেয়ে তা জব্দ করে নিজ জিম্মায় নেন। মোবাইল কোর্ট ভাই ভাই মাংসের দোকান কর্তৃপক্ষকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
পরবর্তীতে মোবাইল কোর্ট মিরাবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় মিরাবাজারের মোহাম্মদী খাসির দোকানের পাশের খাসির দোকানে (সাইনবোর্ডবিহীন) দুটি অপ্রাপ্তবয়স্ক (২ মাস বয়সী) ছাগলের বাচ্চা দেখতে পেয়ে ডাক্তার মোহাম্মদ মাহবুব আলম তা জব্দ করে জিম্মায় দেন।
এই অভিযানের পর শিবগঞ্জের বংগাই মিয়ার মাংসের দোকানে অভিযান চালায় মোবাইল কোর্ট। সেখানে গিয়ে মাংস ও কলিজা পরীক্ষা করার পর ডাক্তার মোহাম্মদ মাহবুব আলম নিশ্চিত হন সেখানে লিভার সিরোসিস-রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস ও কলিজা বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। এসময় বংগাই মিয়ার মাংসের দোকান কর্তৃপক্ষ জানান ‘এগুলো (লিভার সিরোসিস-রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস ও কলিজা) হোটেলে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে।’
ডাক্তার মোহাম্মদ মাহবুব আলম মাংস ও কলিজা পরবর্তী পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য স্থানীয় ল্যাবরেটরিতে প্রেরণের জন্য তা জব্দ করেন। এসময় বংগাই মিয়ার মাংসের দোকান কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এই ব্যাপারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মোঃ শরীফুজ্জামান জানান, খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১ এর অধীনে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এখন থেকে তা নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। অভিযানকালে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ফোর্স এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মন্তব্য