০১ মে, ২০১৬ ১২:৫০
মহান মে দিবস উপলক্ষে নগরীতে মিছিল এবং সমাবেশ করেছে হরিজন সংগ্রাম পরিষদ সিলেট।
রবিবার সকালে এ মিছিল, সমাবেশ করা হয়।
হরিজনদের ভূমির আইনী অধিকার, শিক্ষা-স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত এবং সুইপার পদে ৮০ ভাগ কোটা নিশ্চিত করাসহ নানা দিবি সম্বলিত ফেস্টুন সহকারে বর্নাঢ্য মিছিলটি কাষ্টঘর থেকে শুরু কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। হরিজন সংগ্রাম পরিষদের সংগঠক সুজন লালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হরিজন সঙগ্রাম পরিষদের উপদেষ্ঠা মুখলেছুর রহমান, হরিজন নেতা রতন লাল প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মহান মে দিবস শ্রমজীবী মেহনতী মানুষের লড়াই সংগ্রামের প্রেরণার দিন। মে দিবসের চেতনাকে ধারণ করে গোটা বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবি মানুষ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আজ মে দিবসের ১৩০তম বার্ষিকী সমাগত হলেও দুনিয়া জোড়া মালিক শ্রেনীর সরকার শ্রমজীবী মানুষের জীবনে নামিয়ে এনেছে অবর্ননীয় দূর্ভোগ। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের শ্রমজীবি মানুষরাও এই আক্রমত থেকে মুক্ত নয়, বিশেষত হরিজন সম্প্রদায় আরো বঞ্চিত । বৃটিশ সরকার তার শাসন শোষণ দীর্ঘস্থায়ী করে তোলার জন্য এমন একদল মানুষ তৈরি করল যারা শুধু কাজ করে যাবে, ভাল মন্দ যাচাই করার মতো কোন বুদ্ধি থাকবে না। বৃটিশরা দু’শ বছর শাসন শোষণ করলো, পাকিস্তান তেইশ বছর শাসন শোষণ করলো কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও হরিজনদের জীবনের কোন পরিবর্তন হলো না।
বাংলাদেশের সরকারী, বেসরকারী, স্বায়ত্বশাষিত প্রতিষ্ঠানে সুইপার পদে ৮০% কোটা হরিজনদের জন্য ঘোষণা করা হলেও বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে বেশির ভাগ অ-হরিজনরা লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পেয়ে থাকে। ফলে হরিজন যুবকদের প্রায় শতকরা ৯০ জনই বেকার থাকে। আর ডি.সি. রিপোর্ট অনুযায়ী হরিজনদের মাসিক আয় ২১৫০.২৪ টাকা আর মাসিক ব্যয় ৩১৩৯.৮০ টাকা আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতা এবং বেকারত্বের ফলে তাদের জীবন হয়ে উঠে অমানবিক। কোন রেস্টুরেন্টে হরিজনরা চা পান করতে গেলে নিজেদের কাপ নিয়ে চা পান করতে হয়। এ থেকে প্রমাণ হয় হরিজনদের সামাজিক কোন মর্যাদা নেই।
সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে হরিজন শিশুরা বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে পারে না। তাদের ভূমির কোন অধিকার নেই। যে ভূমিটুকু তাদের জন্য বরাদ্দ তা একেবারে নগন্য। গড়ে একটি রুমে ৭-৮ জন মানুষ বসবাস করে।
এমতাবস্থায়, সকল শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির আন্দোলনের পথ ধরেই হরিজনদের মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আপনার মন্তব্য