নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ মে, ২০১৬ ২১:২৯

গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১১ ইউনিয়নে শেষ মুহুর্তে এগিয়ে যারা

৭ মে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ১১টি  ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এই উপজেলায় মোট ৭৪ জন প্রার্থী হয়েছেন।

তার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে ২৮ জন আর স্বতন্ত্র প্রতীক নিয়ে ৪৬ জন প্রার্থী, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৮৫ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৬৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

এই নির্বাচনকে ঘিরে চায়ের টং দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্রই এখন চলছে ভোটের হিসাব নিকেশ। বৃহস্পতিবার সারাদিন বিভিন্ন পদের প্রার্থীরা ব্যস্ত দিন পার করেছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণই ছিল তাদের লক্ষের কেন্দ্র বিন্দুতে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১ নং বাঘা ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী। রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান কবির আহমদ (টেবিল ফ্যান)। তবে এ ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আ.লীগ বিদ্রোহী ছানা মিয়া, খেজুর গাছ প্রতীকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নুরুল আমিন এবং  অটোরিকশা প্রতিকে জামায়াতের আবুল হাসনাত। এদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা বেশী। এছাড়া এ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন নৌকা প্রতীকে আ.লীগের দলীয় প্রার্থী সায়্যিদ আহমদ সুহেদ, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির আহাদুর রহমান কামরুল, টেলিফোন প্রতীকে জয়নাল আহমদ, মোটরসাইকেল প্রতীকে কামরান আহমদ, ঘোড়া প্রতীকে আব্দুল কাইয়ুম পাখি, চশমা প্রতীকে আতাউর রহমান।

২নং সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সামাদ জিলু (আনারস), আওয়ামী লীগ মনোনীত আবুল কাশেম সেবুল (নৌকা) স্বতন্ত্র প্রার্থী খন্দকার নজরুল ইসলাম আশুক(ঘোড়া), বিএনপি প্রার্থী আসফাক আহমেদ চৌধুরী (ধানের শীষ), রেজওয়ান আহমেদ রিজু (সি এন জি)নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এছাড়া হুসেন আহমদ (মোটর সাইকেল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও এখন পর্যন্ত তাকে নির্বাচনী মাঠে দেখা যায়নি।

৩ নং ফুলবাড়ি ইউনিয়নে আ.লীগ বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সহ ৫ প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নৌকা প্রতীকে আ.লীগের হানিফ আহমদ খান ও ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির মাহবুবুর রহমান ফয়ছলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা বেশী। এছাড়া রয়েছেন টেলিফোন প্রতীকে মুজিবুর রহমান, মটর সাইকেল প্রতীকে সুহেদুর রহমান,আনারস প্রতীকে আবুল কালাম আজাদ।

৪ নং লক্ষীপাশা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদ আহমদ সহ ৭জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নৌকা প্রতীকে মাহমুদ আহমদ এগিয়ে থাকলেও বাকি ৫ প্রার্থীরাও পিছিয়ে নেই। ৫ প্রার্থীর মধ্যে- ঘোড়া প্রতীকে কবির আহমদ মুশন,  টেবিল ফ্যান মার্কায় আবুল কালাম আজাদ, আনারস প্রতীকে আরিফ আহমদ মনজু, চশমা প্রতীকে আব্দুল মুমিন খান, অটোরিকশা প্রতীকে কয়েছ আহমদ, মোটর সাইকেল প্রতীকে আব্দুর রহিম।

৫ নং বুধবারী বাজার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮ জন প্রার্থী। এ ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকে হেলাল উদ্দিন, নৌকা প্রতীকে হাজী রফিক উদ্দিন ও চশমা প্রতীকে মস্তাব উদ্দিন কামালের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা বেশী রয়েছে। এছাড়া এ ইউনিয়নে রয়েছেন আনারস প্রতীকে সাইদুল আলম সুহেদ, খেজুর গাছ প্রতীকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ক্বারি মাওলানা খলিলুর রহমান, টেলিফোন প্রতীকে বিলাল উদ্দিন,ঘোড়া প্রতীকে দবিরুল হক চৌধুরী, মটর সাইকেল প্রতীকে শাহ সাইফুল ইসলাম।

৬ নং ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ প্রার্থী। সবাই সমান তালে প্রচার প্রচারণা চালালেও এ ইউনিয়নে এগিয়ে রয়েছেন চশমা প্রতীকে আব্দুল ছায়াদ, ঘোড়া প্রতীকে জামায়াতের মাওলানা আব্দুর রহিম ও আনারস প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান মজির উদ্দিন চাকলাদার।

এছাড়াও এ ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ধানের শীষ প্রতীকে মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, নৌকা প্রতীকে জামিল আহমদ, টেলিফোন প্রতীকে আফজল হোসাইন রফি,লাঙ্গল প্রতীকে জাপার দেলওয়ার হোসাইন,অটোরিকশা প্রতীকে আব্দুল হান্নান,মটর সাইকেল প্রতীকে রফিক আহমদ খান।

৭ নং লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ প্রার্থী। ধানের শীষ প্রতীকে ৩ বারের নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান নসিরুল হক শাহিনের এবার অগ্নিপরীক্ষা চলছে। অপর ৬ প্রার্থী নৌকা প্রতীকে দেলওয়ার হোসেন, লাঙ্গল প্রতীকে খলকুর রহমান খলকু, আনারস প্রতীকে খালেদুর রহমান, অটোরিকশা প্রতীকে মুহিবুর রহমান,ঘোড়া প্রতীকে আশরাফ উজ্জামান আশু, মোটর সাইকেল প্রতীকে জামায়াতের কয়েছ আহমদ। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।

৮ নং ভাদেশ্বর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৪ প্রার্থী। নৌকা প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান এম এ ছালিক শক্ত অবস্থান থাকলেও ধানের শীষ প্রতীকে জিলাল উদ্দিন ও আ.লীগের বিদ্রোহী  প্রার্থী আনারস প্রতীকে রুমেল সিরাজের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা বেশী। তবে পিছিয়ে নেই মোটর সাইকেল প্রতীকে শহীদ আহমদ লালা।

৯ নং পশ্চিম আমুড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৯ প্রার্থী। নৌকা প্রতীকে আ.লীগের মঈন উদ্দিন, ঘোড়া প্রতীকে বর্তমান চেয়ারম্যান আছদ্দর আলী জালালী,খেজুর গাছ প্রতীকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ইমাদ উদ্দিন সালিম রয়েছেন শক্ত অবস্থানে। তাছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অটোরিকশা প্রতীকে আং হামিদ বুলু, মোটরসাইকেল প্রতীকে কামাল উদ্দিন, টেলিফোন প্রতীকে জাবেদ হুসেন, ধানের শীষ প্রতীকে ফখর উদ্দিন সফই, টেবিল ফ্যান প্রতীকে হারুনুর রশীদ, আনারস প্রতীকে রুহেল আহমদ।

১০ নং বাদেপাশা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৩ জন। নৌকা প্রতীকে আ.লীগের মোস্তাক আহমদ,আনারস প্রতীকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান, মশাল প্রতীকে কয়েছ আহমদ।

১১নং শরীফগঞ্জ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ প্রার্থী। নৌকা প্রতীকে আ.লীগের এম এ মুমিত হীরা ও মোটর সাইকেল প্রতীকে জামায়াতের আতিকুর রহমান এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকে সুরাব আলী,অটোরিকশা প্রতীকে আমিনুল রাজা শামিম, ঘোড়া প্রতীকে এম কবির উদ্দিন, আনারস প্রতীকে দুলাল আহমদ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত