নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ জুন, ২০১৬ ১৮:২৫

ফুটপাত বেদখল, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, দুর্বিসহ যানজট

অসহনীয় যানজটে নাকাল হওয়ার অবস্থা সিলেট নগরবাসীর। রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকেই যানজট তীব্র আকার ধারন করেছে। নগরীর ফুটপাতগুলো দখল হয়ে যাওয়া, ঈদের বাজারের চাপ আর ট্রাফিক অব্যস্থাপনার কারনে যানজট অসহনীয় রুপ নিয়েছে বলে মনে করেন নগরবাসী।

একে তো যানজটে দীর্ঘক্ষণ রাস্তায়ই আটকে থাকা, তারউপর ভ্যাপসা গরমে অতীষ্ট হয়ে উঠেছে নগরবাসী। রোজার মাস হওয়ায় আরো দূর্ভোগে পড়ছেন রোজাদাররা।

রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকেই নগরীতে যানজট অসহনীয় রুপ নেয়। নগরীর মূল সড়কগুলো ছাপিয়ে পাড়ার গলি পথেও দেখা দিচ্ছে দীর্ঘ যানজট। কেবল দিনে নয় রাতেও  যানজটের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর ফুটপাতের পুরোটাই দখল করে নিয়েছে ভাসমান ব্যবসয়ীরা। ফুটপাত ছাপিয়ে সড়কের অনেকাংশও হকারদের দখলে। ফলে রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের। তারউপর রমজানে বেড়েছে য়ানবাহনের চাপ। বিভিন্ন বিপনী বিতান ও বাজারের সামনে পার্ক করে রাখা হয়েছে গাড়ি। নগরীর বেশিরভাগ বিপনী বিতানেরই নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তায় পার্ক করা হচ্ছে গাড়ি। এসব কারনে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের।

যানজটের ফলে দূর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবি, ও শিক্ষার্থীসহ সকলেই। গন্তব্যে সময়মতো পৌঁছতে পারছেন না কেউই। কখনও কখনও ২০ মিনিটের রাস্তা পার হতে সময় লাগছে দেড় থেকে ২ ঘণ্টা।

যানজট নিরসনের ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) মুশফিকুর রহমান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যানজট নিরসনে আমরা নগরীর বিভিন্ন মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছি। তারা মধ্যরাত পর্যন্ত যানজট নিয়ন্ত্রনে থাকবে। এছাড়া মেট্রোপলিটন চেম্বারের পক্ষ থেকে আগামীকাল থেকে রোভার স্কাউটের ২৫ জন সদস্য দেয়া হবে। তারা যানজট নিয়ন্ত্রনে পুলিশকে সহযোগীতা করবে।

মঙ্গলবার নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, চৌহাট্টা, লামাবাজার, শিবগঞ্জ, মিরাবাজার, সুবহানীঘাট, নয়াসড়ক, কুমাড়পাড়া, তালতলা, কীনব্রিজ, সুবানিঘাটসহ প্রতিটি সড়ক ঘুরেই দেখা যায় দীর্ঘ যানজটের চিত্র।

মঙ্গলবার নগরীর জিন্দাবাজারে যানজটের কারনে রিকশার মধ্যে অপেক্ষমান যাত্রী কয়সর আহমেদ বলেন, রিকশা গাড়ি যে যার মতো চলছে, ফুটপাত দখল হয়ে গেছে। রাস্তার মধ্যেও দোকান নিয়ে বসে আছে হকাররা। অনেকগুলাে মার্কেটের পার্কিং নেই। এসব কারনে দুর্বিসহ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অথচ পুলিশ বা সিটি করপোরেশনের এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেই।

তিনি বলেন, রোজার মধ্যবর্তী সময় যদি এই রকম যানজটের সৃষ্টি হয়, তবে কয়দিন পরে কি অবস্থা হবে?

রিকশাচালক হেলাল মিয়া বলেন, এখন লোকজন বেশি তাই গাড়ির সংখ্যাও বেশি, একারণে যানজট বাড়ছে।

শরিফুল ইসলাম নামের এক অটোরিকশা চালক বলেন, শহরের গাড়ির তুলনায় রাস্তা ছোট। তার উপর রাস্তার প্রায় অর্ধেকই থাকে বিভিন্ন ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের দখলে। যার কারণে আমদের যানজটের সম্মুখীন হতে হয় বেশি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত