২১ জুন, ২০১৬ ২২:০৪
মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন ছিলো নগরীর অধিকাংশ এলাকা। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে নগরবাসীকে। বিদ্যুতহীনতা যেখানে সিলেট নগরবাসীর নিত্যকার সমস্যা, সেখানে সন্ধ্যা হলেই নগরীর শপিংমলগুলো দেখা যায় আলোর বাহার। ঈদ উপলক্ষ্যে ক্রেতা আকৃষ্ট করতে বাহারি আলোকসজ্জ্বা করা হয়েছে শপিং মল ও ফ্যাশন হাউসগুলোতে।
এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাও মানছে না ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুতের অপচয়রোধে রমজানে দোকানপাট ও শপিংমলে আলোকসজ্জার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সিলেটের অধিকাংশ শপিংমল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্দেশনা মানছে না। হাতেগোণা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া নগরীর সব অভিজাত শপিংমলে সন্ধ্যার পর বর্ণাঢ্য আলোকবাতি জ্বলছে। বাহারি আলোকসজ্জায় বর্ণিল হয়ে উঠেছে নগরীর সব অভিজাত মার্কেট-শপিং মল। শুধু অভিজাত নয়, মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্তদের বিপণী বিতান-দোকানপাটগুলোও বাহারি আলোয় আলোকিত।
সিলেটে এমনিতেই বিদ্যুতের লোডশডিংয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে। এ অবস্থায় রমজানে নগরীর শপিংমলগুলোতে চলছে চোখ ধাঁধাঁনো আলোকসজ্জার প্রতিযোগিতা।
সন্ধ্যার পর নগরীর জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, নয়াসড়ক, বারুতখানা, কুমারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনাকে মানছেন না মাকের্টের ব্যবসায়ীরা। শুধু মার্কেট নয় পিছিয়ে নেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন ব্রান্ডের শো রুমগুলোও।
অলিতে-গলিতে থাকা শো-রুমেও ক্রেতা আকৃষ্ট করতে আলোকসজ্জা দেখা গেছে। জিন্দাবাজারের সিলেট প্লাজা, লতিফ সেন্টার, সিলেট মিলেনিয়াম মার্কেট, কুমারপাড়া দেশীদশ, বারুতখানা করিম টাওয়ার, সিলকো টাওয়ারসহ বিভিন্ন শপিং কমপে¬ক্সে গিয়ে বাহারি আলোকসজ্জা দেখা গেছে। মার্কেটের আগাগোড়া মোড়ানো হয়েছে বর্ণিল লাইট দিয়ে।
পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই। তারপরও সময় অসময় সিলেটে বিদ্যুৎ চলে যায়। অফিস, আদালত ও বাসাবাড়িতে এমনকি মার্কেটগুলোতেও সিএফএল বাল্ব ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুত সাশ্রয়ের নির্দেশনা দীর্ঘদিনের। রমজানে যাতে কোন প্রকার লোডশেডিং না হয় সেজন্য আলোকসজ্জ্বা না করতে নির্দেশনা দিয়েছে সিলেট বিদ্যুত বিভাগ। সিলেটের কোন বিপণীবিতানে আলোকসজ্জা না করার জন্য মাইকিংও করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিপনীবিতানগুলোতে আলোকসজ্জা না করা গেলে গ্রাহক আকর্ষণ অনেকটা কমে যায়। আর বছরে একবার এটি যাতে করা যায় সেজন্য তাদেরকে সহযোগিতা করার আহবান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জেনারেটরের মাধ্যমে আলোকসজ্জা কিছু সময়ের জন্য সম্ভব হলেও প্রতিনিয়ত আলোকসজ্জার ক্ষেত্রে পিডিবির বিদ্যুত ছাড়া সম্ভব নয়।
এ ব্যপারে সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এনামুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, পুরো বছর জুড়েই ব্যবসায়ীরা পিডিবির কথা শুনে আসছেন। পিডিবির নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা রাত ৮ টার পর দোকান পাট বন্ধ রাখছেন। ঈদুল ফিতর আসে এক বছর ঘুরে। এ সময়ে উচিৎ ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দেওয়া। তারা যদি আলোকসজ্জা না করে ব্যবসা করেন এতে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। মার্কেটে আলোকসজ্জা না করার যে নির্র্দেশনা সেটি ব্যবসায়ীদের জন্য অবিচার বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, রমজানে চাহিদা বাইরে কিছুটা বিদ্যুত সরবরাহ করে ব্যবসায়ীদের ব্যবসার সুযোগ কওে দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি আহবান জানান।
এ ব্যপারে সিলেট বিদ্যুৎ বিক্রয় বিতরণ বিভাগ ২’র নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ২ টি সাব স্টেশনে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের পুরোটাই আমি পাচ্ছি। এখন যদি বেশী লোড হয় তখন লোডশেডিং হবে। এতে সাধারন মানুষজন বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হবে। একারনে মার্কেটগুলোতে আলোকসজ্জা না করার জন্য তাদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন ‘কোন প্রতিষ্ঠান যদি নিজস্ব জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে সেক্ষেত্রে তো আমাদের কিছু করার থাকেনা। লোড ক্রাইসিস শুরু হলে সেটা আমরা খতিয়ে দেখব।
আপনার মন্তব্য