০৩ আগস্ট, ২০১৬ ০১:২৭
মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারির পর কেটে গেছে এক বছর। দ্বিতীয় বছরে পদার্পণের পরও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আইন কানুনের তোয়াক্কা না করেই সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে অবাধে চলছে এ বাহনটি। বিভিন্ন স্থানে হাইওয়ে পুলিশের চেকপোস্ট বসিয়েও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না সিএনজি চলাচল। সিলেটের চন্ডীপুল চত্বর থেকে শেরপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীন স্ট্যান্ড বানিয়ে বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে সিএনজি অটোরিকশার চালকরা।
মহাসড়কটির ওসমানীনগর উপজেলা এলাকায় যাওয়ার পথে দেখা যায়, শেরপুর, গোয়ালাবাজার, তাজপুর, দয়ামীর, কুরুয়া, নাজিরবাজারসহ সকল স্থানের মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড রয়েছে ও মহাসড়কের যত্রতত্র পার্কিং করা হচ্ছে।
সিএনজি অটোরিকশার অবাধ চলাচলের ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসমানিনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল চৌধুরী বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কোথাও কোন সিএনজি চলতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে আরো তথ্য জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে হঠাৎ মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন তিনি।
এদিকে হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই কাগজপুর ব্রিজের কাছে সিএনজি চলাচল বন্ধে টহলরত অবস্থায় ২০-৩০টি সিএনজি নিয়ে সদলবলে পুলিশের ওপর হামলা চালায় সিএনজি চালকরা। এ সময় তারা টহল গাড়িটি ভাঙচুর করে। পরবর্তীতে ওসমানীনগর থানায় একটি মামলাও দায়ের করে হাইওয়ে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসে সরকার এ আইনটি কার্যকর করার পর থেকে মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে আসে। কিন্তু বিগত কয়েক মাস থেকে পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক হলে আবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। সকল বাজার এলাকায় দেখা যায় মহাসড়কের উভয় পাশে সড়ক দখল করে সিএনজির অবৈধ স্ট্যান্ড বানিয়ে সিএনজি দাড় করে রাখে।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের নাজিরবাজার এলাকায় কর্তব্যরত হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট জসিম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা প্রাণান্ত চেষ্টা করছি,বর্তমানে আগের তুলনায় কম চললেও পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয় নি”। এক্ষেত্রে সিএনজি চালকদের দায়ী করে তিনি বলেন, “সিএনজি চালকরা পুলিশ দেখলেই গলির রাস্তায় ঢুকে পড়ে, আর পুলিশ চলে গেলে আবার মহাসড়কে উঠে আসে”।
এ প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার সময় পুলিশ সদস্যরা একটি অটোরিকশাকে থামতে ইশারা করলে অটোরিকশার চালক বেপরোয়াভাবে দ্রুত গতিতে পুলিশ সদস্যটিকে আঘাত করে চলে যায়। জসিম উদ্দিন জানান,এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। জনবল কম থাকায় পুলিশ সদস্যরাও নিরুপায়।
মহাসড়কের গোয়ালাবাজার এলাকায় স্থাপিত সিএনজি স্ট্যান্ডের এক চালকের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞা জারির পর কিছুদিন শহরে গাড়ি চালালেও শহরের যানজট ও অনেক দুরের পথ হওয়ায় তিনি আবারও মহাসড়কেই ফিরে এসেছেন। এতে দুর্ঘটনার আশংকা থাকলে জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই গাড়ি চালান।
হাইওয়ে পুলিশ প্রায় প্রতিদিনই মহাসড়কে চলাচলের কারণে কিছু সিএনজি অটোরিকশা আটক করেন, কিন্তু জরিমানা প্রদান করে মালিক পক্ষ গাড়ি ছাড়িয়ে নেন এবং আবারো সেই মহাসড়কে নামান।
অনেকের কাছে মহাসড়কে বিকল্প যানবাহনের অপ্রতুলতার কারণে স্বল্প দূরত্বে সিএনজি অটোরিকশাই ভরসা। নাজিরবাজারের বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, “সরকার তো নিষেধাজ্ঞা জারি করেই খালাস, কিন্তু বিকল্প যানবাহন না থাকলে আমাদেরকে সিএনজিতেই উঠতে হবে। আমরা যদি সিএনজিতে নাই চড়ি তাহলে এমনিতেই মহাসড়কে চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে এই বিপদজনক যানটির,তার জন্য অবশ্যই সরকারের নিতে হবে বিকল্প কোন ব্যবস্থা”।
বিকল্প সড়ক না থাকায় মহাসড়কে সিএনজি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না স্বীকার করে, মহাসড়কে খুব বেশি সিএনজি চলছে না দাবি করেছেন শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি মাস দেড়েক হয়েছে, এ থানার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। এ সময়ের মধ্যে হাইওয়েতে সিএনজি চলাচল বন্ধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আগে যদি ১০০ সিএনজি চলাচল করতো, সে জায়গায় এখন বেশি হলে ৫টি সিএনজি চলছে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে। সিএনজি চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা নিয়ে গিয়ে গত জুলাই মাসের ২০ তারিখে সিএনজি চালকরা দলবদ্ধ হয়ে হাইওয়ে পুলিশের উপর হামলাও চালিয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে পুলিশ মহাসড়কে সিএনজি চলাচল বন্ধে তৎপরতা আরো বৃদ্ধি করেছে”।
আপনার মন্তব্য