বানিয়াচং প্রতিনিধি

২৩ মে, ২০১৭ ১৫:৪২

তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত বানিয়াচংয়ের জনজীবন, বাড়ছে অসুখের প্রকোপ

প্রকৃতির নির্মম তাপদাহে পুড়ছে সারা দেশ। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ক্রমেই প্রভাব ফেলেছে আমাদের জনজীবনে। বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরম আরও বেশি অসহনীয় হয়ে উঠছে। এরই ধারাবাহিকতায় হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায়ও পড়েছে এর প্রভাব।

অব্যাহত তীব্র তাপদাহের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। তাপদাহ বৃদ্ধির সাথে সাথে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন রকমের অসুখ-বিসুখ। শিশু থেকে শুরু করে যুব ও বৃদ্ধরাও আক্রান্ত হচ্ছেন সর্দি, কাশি, জ্বর, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে।

বিশেষ করে গত দু’দিনের প্রচন্ড গরমে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। পথ চলতি মানুষ ঘামতে ঘামতে পথে হাঁটছেন। যানজটে আটকা পড়া মানুষের অবস্থা আরও খারাপ। হাঁসফাঁস অবস্থা রাস্তায় বের হওয়া শ্রমজীবি মানুষের।

এদিকে, তীব্র গরমের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে কয়েকদিন ধরেই চলছে বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং। সাধারণ মানুষ তাদের নিত্যদিনের কাজকর্ম করতে হাঁপিয়ে উঠছেন। লোডশেডিংয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা। দিন বাড়ার সাথে সাথে সূর্যের প্রখরতা প্রচন্ডভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ নিজ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে একেবারেই বের হচ্ছেন না। তবে খেটে খাওয়া মানুষ বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে দৈনন্দিন কর্মকান্ড সেরে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খেটে খাওয়া লোকজন সামান্য একটু শান্তির আশায় বিভিন্ন গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। কিশোর-তরুণদের বিভিন্ন কোমল পানীয়ের দোকানে দাঁড়িয়ে, বসে ঠান্ডা কোমল পানীয় পান করতে দেখা গেছে। সেই সাথে প্রচন্ড গরমে তরমুজ, ঠান্ডা পানি, ডাবের পানি বিক্রিও বেড়ে গেছে।

বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. পঙ্কজ কান্তি গোস্বামী জানান, এই গরমে বেশিক্ষণ খোলা স্থানে থাকলে হিট স্ট্রোকের আশংকা বেশি থাকে। চলমান তাপদাহে প্রচন্ড রোদের তাপ থেকে যতদুর পারা যায় নিজেদের ছায়ায় রাখার চেষ্টা করুন। অবশ্যই সুপেয় পানি পান করতে হবে। শরীরের ঘাম শুকানোী আগেই গোসল করে শরীর পরিষ্কার করে নেয়া ভাল। বিশেষ করে রোদ থেকে ফিরে ফ্রিজের রক্ষিত ঠান্ডা পানির সাথে নরমাল পানি মিক্স করে খাওয়া উচিত। খুব সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত