নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ জুন, ২০১৭ ১৯:৪২

এতো প্রকল্প, তবু কেন জলাবদ্ধতা?

সিলেট নগরীর খাল, ছড়া ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য বিগত ১০ বছরে তিন প্রকল্পে ২৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ পায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন। সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে ২৩৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক।

মূলত, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যই এ সকল বরাদ্দ পেয়েছে কর্পোরেশন। তবুও জলাবদ্ধতার দূর্ভোগ থেকে নিস্তার পাচ্ছে না নগরবাসী। প্রতি বছরের মতো বুধবার সকাল থেকেই নগরী তলিয়ে যায় বৃষ্টির জলে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এ পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে শঙ্কা নগরবাসীর।

সিটি কর্পোরেশনের দাবি, নগরীর জলাবদ্ধতা আগের চেয়ে অনেকাংশে কমে এসেছে আর এখন জলাবদ্ধতাও দীর্ঘ সময় ধরে থাকছে না।

তবে সিলেটবাসীর দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসনে আরো কার্যকরী ও সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন আর কাজের ধারাবাহিকতাও নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (১৪ জুন) শেষ রাত থেকে সিলেটে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। সড়ক ছাপিয়ে বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে পড়ে পানি। এতে চরম দূর্ভোগে পড়ে নগরবাসী।

জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের ভোগান্তির সাথে সাথে প্রশ্ন উঠেছে, নগরীর খাল ও ছড়া উদ্ধার কার্যক্রম এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারে কর্পোরেশনের এত উদ্যোগের পরও কেনো এ জলাবদ্ধতা।

সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতার সমস্যা মূলত কর্পোরেশনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা না থাকার খেসারত।

তিনি বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যখন বিভিন্ন জটিলতায় তার দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হন, তখন তার খেসারতও নগরবাসীকে দিতে হয়, যা এই জলাবদ্ধতার সময় নগরবাসী দিচ্ছেন।

কিম বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর নগরীর খাল ও ছড়া উদ্ধার ও সংস্কারের মাধ্যমে যে বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, তা পরবর্তীতে ব্যহত হয়েছে তারা কারাবন্দী থাকার সময়ে, আর এ কারণেই এখনো জলাবদ্ধতার কারণে নগরবাসীর এ ভোগান্তি।

এ সমস্যা নিরসনে বিগত দশ বছরে যে বরাদ্দ এসেছে, তার সিংহভাগ, ২৩৬ কোটি বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে গত জানুয়ারী মাসে যা নগরীর ৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল ও ছড়া এলাকার সংস্কারে ব্যয় করার কথা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সিটি কর্পোরেশন বরাদ্দের টাকা নগরীর উন্নয়নে খরচ করলেও তাতে স্বচ্ছতা আরো বেশি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি দাবি জানান, সবকটি প্রকল্প এলাকায় ওই কাজের ব্যয়ের অংকসহ প্রকল্পের বর্ণনা সম্বলিত একটি বোর্ড থাকলে কাজের বিষয়ে মানুষ জানতে পারে, আর স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের তথ্যমতে, বুধবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মোট ১৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যার মধ্যে দুপুর ১২ টা থেকে ৩টার মধ্যেই হয়েছে ৮৭.৪ মিলিমিটার।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, বুধবার রাতেও বৃষ্টিপাত হবে, বৃহস্পতিবার কিছুটা কম তবে শুক্রবার ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে।

এদিকে বুধবার সকাল থেকে জলাবদ্ধ নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতার সৃষ্টির মূল কারণ হচ্ছে সুরমা নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া। ড্রেন, খাল ও ছড়াবাহিত পানি সুরমা নদী পুরোপুরি যাওয়ার কারণে প্রবাহিত না হওয়ায় নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

তবে কিছু এলাকায় অন্যান্য সমস্যাও চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, নগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকা, দরগা গেইট, দাড়িয়াপাড়াসহ কিছু এলাকায় অপরিকল্পিত ড্রেনের ব্যবস্থা বা পানি নিষ্কাশনের পথে প্রতিবন্ধকতা থাকার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা নিরসনে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, দুই তিন দিনের মধ্যেই সমাধান হবে।

মেয়র আরো জানান, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল, ছড়া ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে গৃহিত অনেক পদক্ষেই এখনো বাস্তবায়নাধীন আছে, নিকট ভবিষ্যতে আর জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকবে না।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত