১৫ জুন, ২০১৭ ০১:৪১
সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়-টিলার পাদদেশে ঝূঁকি নিয়ে বসবাস করছে সহস্রাধিক পরিবার। সিলেটের ৮ টি উপজেলায় এরকম টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে লোকজন বসবাস করে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। তবে ঠিক কতটি পরিবার এ কি পরিমান লোক এরমক ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে এরকম কোনো তথ্য নেই জেলা প্রশাসনের কাছে।
বিভিন্ন বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে, নগরীর উপকণ্ঠসহ সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে সহস্রাধিক পরিবার বসবাস করছে। এসব পরিবারগুলোর প্রায় দশ হাজার লোক রয়েছে ঝুঁকিতে।
সিলেটে প্রতি বছরই টিলা ধসে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। তবু ঝূঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের পূণর্বাসন বা নিরাপদে সরিয়ে নিতে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলায় পাহাড় ধসে শতাধিক লোকের প্রাণহাণির পর সিলেটেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বুধবার সিলেটের পাহাড় টিলা বেষ্ঠিত উপজেলাগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী লোকদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হয়। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিয়ে সমাবেশ করেন।
অপরিকল্পিতভাবে টিলা কাটা, বৃক্ষ উজার ও টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসের ফলে এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। ঝুঁকিতে থাকা এই জনগোষ্ঠিকে নিয়ে প্রশাসনের কার্ডকর কোনো উদ্যোগ না থাকায়ও ক্ষোভ তাদের।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, পাহাড়-টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে কি পরিমাণ লোক বাস করছে, কোন উপজেলায় এ সংখ্যা কত এসব ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই প্রশাসনের কাছে। এদের পুণবার্সনের কোনো উদ্যোগ নেই। কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসনের মধ্যে ঝুঁকিতে থাকা এসব লোকদের সরাতে একটা তোড়জোড় শুরু হয়। কিছুদিন পর আবার তা থেমে যায়। ফলে বছর বছরই এরকম দুর্ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, সিলেটেও বিভিন্ন সময় টিলা ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও এসব ঘটনায় কোনো তদন্ত হয়নি। কেনো দুর্ঘটনা ঘটলো, কারা এ জন্য দায়ী এগুলো খুঁজে বের করা হয় নি।
একশ্রেণীর দখলদার চক্র টিলা দখল ও কাটার সুবিধার্থে টিলার পাদদেশে ঘর নির্মাণ করে দরিদ্র ও ভূমিহীন লোকদের ভাড়া দেয় উল্লেখ করে কিম বলেন, এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে, টিলা কাটা বন্ধ করা না গেলে এরমক দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে না।
জানা যায়, নগরী, নগরীর উপকণ্ঠ ও সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় টিলা ও পাহাড় কেটে কাঁচা-আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে সহস্রাধিক পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে এরা বসবাস করে আসলেও তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বা পুণর্বাসনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে নগরীর ৮ নং ওয়ার্ডের জালালীয়া আবাসিক এলাকা ও হাওলাধার পাড়া ঘুরে দেখা গেছে, টিলার পাদদেশে ও টিলার উপরে কয়েকশত পরিবার ঝূঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে টিলার বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গণ দেখা দিয়েছে। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এছাড়া নগরীর উপকণ্ঠের বালুচর, বিমানবন্দর সড়ক, খাদিমপাড়া, খাদিমনগর, জোনাকী, ইসলামপুর মেজরটিলা, মংলিরপাড় এলাকায় বিভিন্ন টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে কয়েক শত পরিবার। এছাড়া জৈন্তাপুর উপজেলার নয়াখেল, আঞ্জা গ্রাম ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় বিভিন্ন টিলা ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে আরো কয়েক সহস্রাধিক লোক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র টিলার পাদদেশে বাড়ি নির্মান করে ভূমিহীন কাছে ভাড়ার দিয়ে থাকে। অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে ভাড়া পাওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি সত্ত্বেও এসব বাড়ি ভাড়া নেন অসহায় লোকজন। স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী ভূমিখেকোরা অবৈধভাবে টিলা কাটার ফলে বর্ষা মৌসুমে ধসের আশঙ্কা আরো বেড়ে গেছে।
সিলেটে পাহাড়-টিলার পাদদেশে ঝূকিপূর্ণভাবে কতটি পরিবার বসবাস করছে এ ব্যাপারে
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন বলেন, জাফলং পাথর কোয়ারী ও বল্লাঘাট এলাকায় টিলা ও পাহাড় ঘেষে গড়ে ওঠা অস্থায়ী বস্তিতে অনেক লোক বসবাস করে। যাদের বেশিরভাগই পাথর শ্রমিক। তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
তবে পুরো জেলায় এরকম ঝুঁকি নিয়ে কি পরিমান লোক বাস করে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই প্রশাসনের কাছে। এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার বলেন, টিলার নিচে ঝূঁকিপূর্ণভাবে বসরবারতদের কোনো পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই। তবে জেলার আটটি উপজেলায় ঝুঁকি নিয়ে কিছু পরিকবার বসবাস করার তথ্য রয়েছে। তাদের সরিয়ে নিতে আমরা কাজ করছি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে কাজ করছেন।
আপনার মন্তব্য