১৭ জুন, ২০১৭ ১৫:৫২
রমজান ও ঈদুল ফিতরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিলেট নগরীতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঈদের কেনাকাটা নির্বিঘ্নে করতে প্রতিটি বিপণি বিতানে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। এর পাশাপাশি শহরজুড়ে মোতায়েন রয়েছে বাড়তি পুলিশ সদস্য।
ঈদ এলেই নগরীতে সক্রিয় হয়ে উঠে ছিনতাইকারী চক্রসহ অন্য অপরাধীরা। ছিনতাইয়ের শিকার হন কেনাকাটা করতে বের হওয়া সাধারণ ক্রেতারা। এবার এমন পরিস্থিতি এড়াতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ব্যবসায়ীরা যাতে নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন আর ক্রেতারা নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন সে জন্য নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বড় বড় ফ্যাশন হাউস ও মার্কেটগুলোর সামনে নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
শপিংমলগুলোর ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের বাজারে যে কোন ধরণের আপত্তিকর ঘটনা এড়াতে ক্রেতাদের জন্য মার্কেটগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে। নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে রয়েছে নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী সেই সাথে বেশ কয়েকটি শপিংমলে রয়েছে নিজস্ব সিসি ক্যামেরা।
ঈদ বাজারের নিরাপত্তায় বাড়তি পুলিশের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত সহকারী উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নগরীতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০ রমজান থেকে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়ার কথা থাকলেও শহরবাসীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ১৬ রমজান থেকেই নগরীতে তারা কাজ শুরু করেছেন। তবে ২৫ রোজা থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, নারী চোর চক্রের সদস্য ও নারী ছিনতাইকারী ধরতে নারী পুলিশ এবং পুরুষ ছিনতাইকারী ও অপরাধী ধরতে পুরুষ পুলিশ সদস্য মাঠে কাজ করছেন। এছাড়া রমজানের শুরু থেকেই নগরীর বন্দরবাজার, নাইওরপুল, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, লামাবাজার ও রিকাবী বাজারসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ৫টি ফুট পেট্রোলিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। থাকছে স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোটরসাইকেল ফোর্স। সবমিলিয়ে নগরীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে এসএমপি তৎপর বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, পোশাকধারী নারী সদস্য ছাড়াও ইভটিজিং-বখাটেপনা ঠেকাতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিপণিবিতান এবং বিভিন্ন পয়েন্টে নামানো হয়েছে সাদা পোশাকের মহিলা পুলিশ সদস্য।
পুলিশের পাশাপাশি থাকছে ২৪ ঘণ্টা র্যাবের ৩০ সদস্যের গোয়েন্দা নজরদারি সহ ৭টি টহল যেখানে বাড়তি নিরাপত্তা দিতে কাজ করছেন র্যাবের ৫৬ জন সদস্য। এছাড়াও ২টি মোটরসাইকেলে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৪জন করে র্যাব সদস্য থাকছেন বলে জানান র্যাব-৯ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মাইনুদ্দিন চৌধুরী।
অন্যদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ২৪টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করছে। রয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশের আরও ১২ টি সিসি ক্যামেরা। এছাড়াও বেসরকারি ব্যাংক, হাসপাতালসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরাগুলোও যোগ করবে বাড়তি নিরাপত্তা।
এই সিসি ক্যামেরাগুলোও ঈদের বাজারে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌছুল আলম । তিনি জানান, এই ক্যামেরাগুলো নগরবাসীকে বাড়তি নিরাপত্তা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে অপরাধীদের সনাক্ত এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, নগরবাসীর নিরাপত্তা জোরদার করতে ঈদের আগে এসএমপির চাহিদা মতো আরও ২২টি সিসিটিভি বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আপনার মন্তব্য