২০ জুন, ২০১৭ ১৪:০০
ফের পিছিয়েছে বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ। মঙ্গলবার (২০ জুন) অভিযোগ গঠনের কথা থাকলেও তা হয়নি।
সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধার আদালত অভিযোগ গঠনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আগামী ১৬ জুলাই।
আদালতের পিপি মফুর আলী জানান, মামলার আসামিদের মধ্যে দুইজন আদালতে উপস্থিত না থাকায় অভিযোগ গঠনের তারিখ পিছিয়ে দেয়া হয়। নতুন তারিখ আগামী ১৬ জুলাই।
এর আগে গত ২৩ মে অনন্ত হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন করার কথা থাকলেও তা হয়নি। ওইদিন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধার আদালতে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে দেওয়া অভিযোগপত্রের উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির পর বিচারক ২০ জুন অভিযোগ গঠনের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।
মামলার এজাহারভূক্ত ছয় আসামির মধ্যে তিনজন এখনো পলাতক রয়েছেন।
গত ৯ মে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর দাখিলকৃত সম্পূরক অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। সম্পূরক অভিযোগপত্রে আসামি করা হয় সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ফালজুড় গ্রামের জমশেদ আলীর ছেলে আবুল হোসেন ওরফে আবুল হোসাইন (২৫), একই উপজেলার খালপাড় তালবাড়ি গ্রামের আবদুর রবের ছেলে ফয়সাল আহমদ (২৭), সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বীরেন্দ্র নগর বাগলী গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে হারুনুর রশিদ (২৫), কানাইঘাট থানার পূর্ব ফালজুড় গ্রামের হাফিজ মঈন উদ্দিনের ছেলে মান্নান ইয়াহইয়া ওরফে মান্নান রাহী ওরফে এবি মান্নান ইয়াহিয়া ওরফে ইবনে মঈন (২৪), ফালজুড় গ্রামের জোয়াদুর রহমানের ছেলে আবুল খায়ের রশিদ আহমদ (২৪) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কালীশ্রী পাড়ার ফেরদৌস-উর-রহমানের ছেলে শফিউর রহমান ফারাবী (৩০)। এরমধ্যে মান্নান রাহী, রশিদ আহমদ ও ফারাবী কারাগারে এবং বাকিরা পলাতক রয়েছেন।
আলোচিত এ মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র থেকে সন্দেহভাজন ১০ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন- সিলেটের স্থানীয় দৈনিক সবুজ সিলেটের আলোকচিত্রী ইদ্রিছ আলী (২৪), সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পূর্ব ফালজুড় গ্রামের হাফিজ মঈন উদ্দিনের ছেলে মোহাইমিন নোমান (১৯), লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার রমনপুর জমাদার বাড়ির মোহাম্মদ আলীর ছেলে সাদেক আলী মিঠু (২৮), যশোর জেলার কোতোয়ালী থানার এসএমএ করিম রোডের এএফ রশিদুর রহমানের ছেলে তৌহিদুর রহমান গামা (৫৯), ঢাকার মিরপুরের জব্বার মল্লিকের ছেলে আমিনুল মল্লিক (৩৫), যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ কাজলার মইনউদ্দিনের ছেলে জাকিরুল্লাহ হাসান (১৯), পল্লবীর বাউনিয়াবাদ কলোনীর তাজুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম আরফান মুসফিক (২০), বাগেরহাটের গোয়াখালি গ্রামের রেজাউল কবির বিশ্বাসের ছেলে জুলহাস বিশ্বাস (২৪), নওগাঁ জেলার মহাদেবপুরের ডা. আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে জাফরান হাসান (২০) এবং বরগুনার হেউলিবুনিয়া গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে আবুল বাশার (৪০)।
এর আগে, গত ২৮ আগস্ট পাঁচজনকে আসামি করে এবং ১১ জনকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে অনন্ত হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রের উপর গত ১৮ অক্টোবর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত পুনরায় তদন্ত শেষে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১২ মে সিলেট নগরীর সুবিদবাজারে নিজ বাসার সামনে অনন্ত বিজয় দাশসে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বড় ভাই রত্মেশ্বর দাশ বাদী হয়ে সিলেট নগরীর বিমানবন্দর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করে মামলা করেন। প্রথমে পুলিশ মামলাটির তদন্ত করলেও পরে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়।
আপনার মন্তব্য