২৩ জুন, ২০১৭ ০০:৩১
আর ক'দিন পরেই ঈদ। ঈদের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। নগরীর ফ্যাশন হাউস আর বিপণী বিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সিলেটের নন্দিন পোষাকের দোকান মাহা ফ্যাশন হাউসে পছন্দের পোষাক কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা।
এক ছাদের নিচেই বাড়ির শিশু থেকে প্রবীণ- সবার জন্যই পোষাক মিলছে মাহায়। শাড়ি-কাপড়, সালোয়ার-কামিজ, পাজামা-পাঞ্জাবি, প্রসাধনী সামগ্রী সবকিছুই পাওয়া যাচ্ছে মাহায়। ফলে ক্রেতা ভিড় করছেন অভিজাত এই ফ্যাশন হাউসে। পোষাকের বৈচিত্র্যের কারণেই নগরীর ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে মাহা।
মাহার পুরুষের বিক্রয় শাখার বিক্রয়কর্মী তানভীর আহমদ জানান, পুরুষের পাঞ্জাবি কালেকশনের মধ্যে এন্ডি কটন ১২৮০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত, খদ্দর তোষর ১২৫০ টাকা থেকে ৩৬৫০ টাকার মধ্যে ২০০০ হাজার টাকার মধ্যের কালেকশন গুলো খুব বেশি চলছে বলেও জানান এ বিক্রয়কর্মী।
মেয়েদের বিক্রয় শাখার বিক্রয়কর্মী মান্না বেগম মিষ্টি জানান, বাচ্চা মেয়েদের সিঙ্গেল ড্রেস ৫৫০ টাকা থকে শুরু করে ৭৫০ টাকা পর্যন্ত, টু-পিস ১৪৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১৭৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে তিনি জানান এ বছর বাচ্চা মায়েদের ভারতীয় পার্টি লেহেঙ্গার চাহিদা খুব বেশি। এগুলোর দাম হচ্ছে ২৩৫০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও দুবাই থেকে আমদানিকৃত পার্টি ফ্রক উল্লেখযোগ্য হারে বিক্রয় হচ্ছে জানান তিনি। এ পার্টি ফ্রকগুলোর দাম হচ্ছে ২০০০ টাকা থেকে ৩৮৫০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও রয়েছে বেবি কটন ফ্রক ৭৫০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত। বেবি কটন ফ্রক গুলোও দুবাইয়ের কালেকশন বলে জানান মিষ্টি।
তিনি আরো বলেন, বড় মেয়েদের ক্ষেত্রে সব চাইতে বেশী বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় সিঙ্গেল পিস কুর্তি যার দাম হচ্ছে ৯৫০ টাকা থেকে ৪৩৫০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও দেশি কটন প্লাজু যার দাম ৩৮০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। আছে দুবাইয়ের প্লাজু যার দাম ৮৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও রয়েছে বড়দের স্কাট বড়দের হিযাবের ওড়না।
শাড়ী শাখার বিক্রয়কর্মী শেখ মোহাম্মদ বাদশাহ জানান, এবছর কাঞ্চি গড়ান কাতান ২০,০০০ টাকা থেকে ৩৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া অপেরা, কুসুমকলি, ব্যাঙ্গালুরু, সাউথ কাতান, চেন্নাই কাতান, খাঁদি বেনারসি ক্রেতাদের চাহিদার প্রথমে যার দাম ১০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে টাকা ৪০,০০০ টাকা পর্যন্ত।
তবে তিনি আরো বলেন একটু কম দামের মধ্যে রাজগুরু টা খুব ভালো বিক্রি হচ্ছে। যার দাম হলো ১৮০০ টাকা থেকে ২২০০ টাকা টাকার মধ্যে। এছাড়াও জামদানি, হাফ-সিল্ক, সিল্কের চাহিদা উল্লেখযোগ্য। এখানে ৪০০০ টাকা থেকে ১৫০০০ টাকা হাজার টাকা জামদানি পাওয়া গেলেও ৪০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০০ টাকার জামদানিগুলো বিক্রি হচ্ছে বেশী।
এছাড়াও দেশী শাড়ীর মধ্যে টাঙ্গাইল শাড়ী ৭০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত চাহিদা বাজারে উল্লেখযোগ্য।
মাহাতে বাজার করতে আসা ক্রেতারা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর কাপড়ের দাম কিছুটা বেশি।
মাহা ফ্যাশন হাউসে পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা সরকারি চাকরিজীবী কায়সার মাহমুদের সাথে। তিনি বলেন, ‘এবার জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশী। প্রতিবছর দাম বাড়ছে। এমন চলতে থাকলে আমরা মধ্যবিত্তরা কেনাকাটা করতে পারব না।’
মাহা ফ্যাশন হাউসের কর্মকর্তা শাহান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ক্রেতারা তো প্রতিবছর এমন অভিযোগ করেন। তবে এবার পোশাকের দাম কিছুটা বাড়লেও গতবারের তুলনায় এবারের কালেকশনও অনেক বেশী।
এ ব্যাপারে মাহা'র সত্ত্বাধিকারী মাহিউদ্দিন সেলিম বলেন, গতবারের তুলনায় এবারের ব্যবসা অনেক ভালো হচ্ছে। এবারের ঈদে পণ্যের বৈচিত্রও বেশি। ঈদের বাজারের আগামী কয়েকদিন আরো ভালো যাবে বলে আশাবাদ তাঁর।
আপনার মন্তব্য