২৪ জুন, ২০১৭ ১৭:৪৪
অন্যান্য বছরের মতো এবারাও সিলেটের ঈদের বাজারে ভারতীয় পোষাকের আধিপত্য। ভারতের পোষাকই দখল করে আছে সিলেটের ঈদ বাজার। পাশ্ববর্তী এই দেশটি থেকে আসা কাপড়ই ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে। এছাড়া থাইল্যান্ড ও আরব আমিরাতের পোষাকও রয়েছে পছন্দের তালিকায়।
প্রতি বছরই সিলেটের ঈদ বাজারের একটি বড় অংশ দখল করে থাকে ভারতীয় পোষাক। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। ঈদ উপলক্ষ্যে বিক্রেতারাও ভারত থেকে নিয়ে আসেন নতুন ডিজাইনের কাপড়। কাপড়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত পথে চোরাচালানও বেড়ে যায় এসময়।
শেষ সময়ে এসে ক্রেতাদের পদচারণায় সিলেটের মুখরিত বিপণি বিতানগুলো। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। ঈদ উপলক্ষে বাজারে এসেছে বাহারি পোশাক।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর সিটি সেন্টার, মিলেনিয়াম, কাকলী, ব্লু-ওয়াটার, আল-হামরা, সিলেট প্লাজা, মধুবন, শুকরিয়া মার্কেট, আড়ং, মাহা, লা-রিভ, কাশিসসহ কুমার পাড়া রোডের বিপণিবিতান গুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। রঙ-বেরঙের বাহারি ডিজাইনের পোশাক শোভা পাচ্ছে সবখানে।
প্রতিটি দোকানের ব্যবসায়ীদের দাবী প্রতিবারের মতো এবারেরো ঈদ বাজারে ভারতীয় পোশাকের চাহিদাই বেশি। মেয়েদের জন্য ভারতীয় পোশাক কুর্তি, লং স্কার্ট, লেহেঙ্গা ও ছেলেদের জন্য সেমিলং এবং শর্ট পাঞ্জাবি বেশি চলছে এবার এখানকার ঈদ বাজারে। যার সবগুলই ভারতীয় পোশাক।
সরেজমিনে বিপনিবিতানগুলো ঘুরে পাওয়া গেলো তার সত্যতা। এই বছরও ভারতীয় পোশাকের কদর বেশি। শিশু থেকে শুরু করে মধ্য বয়সীরাও ভারতীয় পোশাকের দিকেই ঝুঁকছেন বেশি।
বিক্রেতাদের সাথে ক্রেতারাও স্বীকার করেছেন, এবারের ঈদে দেশি পোশাকের চেয়ে বিদেশি পোশাকের প্রতি তাদের নজর বেশি।
এছাড়া ভারতের পর থাইল্যান্ড ও দুবাই থেকে কিছু কাপড় এসেছে। অন্যদিকে গেঞ্জি, টি-শার্ট ও জুতোর বাজার দখল করে আছে চীন আর বোরখা ও হিজাবে ওড়নার জায়গা দখল করে নিয়েছে পাকিস্তান। তবে তাদের মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করে আছে ভারত। কারণ বিদেশি শাড়ি ও থ্রি-পিসের প্রায় সবই ভারতের। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেকটা ভিন্নতা রয়েছে দোকানগুলোতে।
বিপনীবিতানগুলো ঘুরে আরো পরিলক্ষিত হয়, বড়-ছোট বেশ কয়েকটা দোকানে ঈদের বাজারের পোশাক ভারতীয় ব্রান্ডের দখলে তাই নয়। রয়েছে নাম ধামও ভারতীয় অভিনেতা, অভিনেত্রী ও সিরিয়ালের নামেই চলছে।
এ ব্যাপারে কাকলি শপিং সেন্টারের সাবিহা ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী আমিন আহমদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরকম নামের পোশাক আমারা বিক্রি করিনা বা এসব পোশাক বলতে বাজারে এমন কিছু নেই। তবে যারা নাম ব্যবহার করে পোশাক বিক্রি করছেন এইটা হয়তো তাদের বিক্রি বাড়ানোর জন্য করছেন।
নগরীর সিলেট সিটি সেন্টারের মল্লিকা শাড়ী ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী বলেন, ‘ এবার ভারতীয় কাতান, ডিআইডি কটন, পেপার সিল্ক, গাউন, ব্রাইডাল গাউন, ইন্ডিয়ান বেনারসি, কাঞ্চিবরণ, মিনাকুমারী, মৌ মাস্তান, কাশ্মীরি সিল্ক ইত্যাদি শাড়ি বিক্রি করছি। এখন পর্যন্ত বিক্রিও ভালো।’
তবে ভারতীয় পোশাক বেশি বিক্রি হলেও দেশীয় বুটিকসের পোশাকের বিক্রি কম- তা বলা যাবে না। নগরীর আড়ং , দেশি দশ, রঙ, শৈল্পিক, বিশ্বরঙ , ইজি ফ্যাশন সহ বিভিন্ন দেশী ব্যান্ডের শো-রুমের দেশি পোশাকও ভালো বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে এবার বিদেশি পোশাক বাংলাদেশের বাজারে বেশী এসেছে। ব্যবসায়ীরা আরো বলেন, রোজা শুরুর পর থেকে ২০ রোজা পর্যন্ত বিক্রি ভালো না হওয়া দুশ্চিন্তায় ছিলেন তারা। কিন্তু এখন একটু হালে পানি পাচ্ছেন। ঈদের আগের ২-১ দিন ব্যবসা আরো জমে উঠবে বলে আশাবাদী বিক্রেতারা।
আপনার মন্তব্য