২৫ জুন, ২০১৭ ২২:১৫
'দেশনেত্রীর ভিশন ২০৩০, ভোটের অধিকার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠান অঙ্গিকার'। ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পোস্টারে লেখা রয়েছে এমনটি। ঈদ শুভেচ্ছার পোস্টারেই নির্বাচনী প্রচারণাও চালিয়ে নিচ্ছেন খন্দকার মুক্তাদির।
কেবল এই বিএনপি নেতাই নন। পুরো নগরী এখন ছেয়ে গেছে নেতানেত্রীদের ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, তোরণ, পােস্টারে। নগরীর বিভিন্ন সড়কের বৈদ্যুতিক তার আর খুটি দখল করে আছে ঈদ শুভেচ্ছার ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড। দেয়ালে দেয়ালে সাটানো হয়েছে পোস্টার। বিভিন্ন সড়কে স্থাপন করা হয়েছে তোরণ।
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আর ২০১৯ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন। এই বছরের শুরু থেকেই নির্বাচন কেন্দ্রীক আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও শুরু করেছেন তৎপরতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবার ঈদ শুভেচ্ছা জানানোর সুযোগে জাতীয় ও সিসিক নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টিও জানান দিচ্ছেন রাজনৈতিক নেতারা। নির্বাচন সমাগত হওয়ায় এবার প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন টানিয়ে ঈদ শুভেচ্ছা জানানোর হিড়িক পড়েছে।
এসব ঈদ শুভেচ্ছাকে 'নির্বাচনী ঈদ মোবারক' আখ্যা দিয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি, সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচন সামনে হওয়ায় এবার সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঘটা করে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। ঈদ শুভেচ্ছা জানানোর সুযোগ নিয়ে জনগনের কাছে তারা নিজেদের জানানও দিচ্ছেন।
বৈদ্যুতিক তার ও খুটিতে এবার প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন টানানো ঝুঁকিপূর্ণ ও নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট করে মন্তব্য করে ফারুক মাহমুদ বলেন, ঈদের পরই সিসিকের এগুলো অপসারণ করা উচিত।
নগর ঘুরে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতাও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার-ফেস্টুন টানিয়েছেন। গত জাতীয় নির্বাচন বর্জন করলেও এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিও নেতারাও যে প্রস্তুত হচ্ছেন তার আভাস মিলেছে এই ঈদে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কারমান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, জেলা সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ দুই দলের শীর্ষ নেতাদের প্রায় সকলেই নিজের নামে ঈদ শুভেচ্ছা পোস্টার-ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ড টানিয়েছেন নগরীতে। এসব নেতাদের প্রায় সকলের নামই আগামী জাতীয় ও সিটি কর্পোরশেন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে।
অনেকক্ষেত্র নেতাদের নাম ব্যবহার করে তাদের অনুসারীরাও ঈদ শুভেচ্ছার ফেস্টুন টানিয়েছেন নগরীতে। বিলবোর্ড দখল করেও ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কয়েকজন। নগরীর রিকাবীবাজার এলাকায় একটি বিলবোর্ডের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছেলে শাহেদ মুহিতের পক্ষ থেকে ঈদ শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। অর্থমন্ত্রীর নামেও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নগরীতে তোরণ, ফেস্টুন টানিয়েছেন তাঁর অনুসারীরা।
এসব শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি পাড়ায় পাড়ায় সিসিকের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরাও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেস্টুন টানিয়েছেন। তোরণ বানিয়েছেন। ফলে ঈদকে উপলক্ষ করে নগরে আগেভাগেই দেখা দিয়েছে নির্বাচনী হাওয়া।
আপনার মন্তব্য