সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

০৩ জুলাই, ২০১৭ ০১:০৫

হাওর বাঁধে দুর্নীতি : দুদকের মামলায় আসামী হলেন যারা

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ৬১ জনকে আসামী করে সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা (মামলা নম্বর ২) দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমদ বাদী হয়ে রোববার দুপুর আড়াইটায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৫ জন পাউবোর কর্মকর্তা, ৪৫ জন ঠিকারদার ও ঠিকাদারের সহযোগিকে আসামী করা হয়েছে।

মামলায় বাদী দাবী করেছেন- আসামীগণ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারাসহ দন্ডবিধি ৪০৯/১৬৬/৫১১/১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। মামলা দায়েরের পর পরই দুদক’এর সহকারী পরিচালক মনিকা আক্তারের নেতৃত্বে একটি দল রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে পাউবো’র সুনামগঞ্জের বরখাস্তকৃত প্রকৌশলী আফছার উদ্দিন ও রাজধানী’র ৯৯ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকার করিম চেম্বারের ৬ষ্ঠ তলার মেসার্স ইব্রাহিম ট্রেডার্স এন্ড মোহাম্মদ শামীম আহসানের প্রো: মো. বাচ্চু মিয়া গ্রেপ্তার করা হয়।

এই মামলার আসামীরা হলেন, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বরখাস্তকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দীন, পাউবোর সিলেট সার্কেলের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম সরকার, সিলেট উত্তর পূর্বাঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাই, সুনামগঞ্জের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস, খলিলুর রহমান, সেকশন কর্মকর্তা মো. শহিদুল্লা, ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ্ খান, খন্দকার আলী রেজা, মো রফিকুল ইসলাম, মো. শাহ আলম, মো. বরকত উল্লাহ ভুঁইয়া, মো. মাহমুদুল করিম, মো. মোসাদ্দেক, সজীব পাল ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

মামলার অভিযুক্ত ঠিকাদাররা হলেন, মো. আফজালুর রহমান, খন্দকার শাহীন আহমেদ, মো. জিল্লুর রহমান, সজীব রঞ্জন দাশ, পার্থ সারথী পুরকায়স্থ, হান্নান আহমেদ, খাইরুল হুদা চপল, কামাল হোসেন, কাজী নাসিম উদ্দিন, খন্দকার আলী হায়দার, আকবর আলী, মো. রবিউল আলম, আবুল হোসেন, শুভব্রত বসু, মোজাম্মেল হক মুন, মো. বাচ্চু মিয়া, শেখ মো. মিজানুর রহমান, আবুল মহসিন মাহবুব, বিপ্রেশ তালুকদার বাপ্পি, মো. জামিল ইকবাল, চিন্ময় কান্তি দাশ, নিয়াজ আহমেদ খান, মিলন কান্তি দে, খান মো. ওয়াহিদ রনি, মো. সোয়েব আহমেদ, মো. ইউনূছ, মো. আব্দুল কাইয়ুম, আতিকুর রহমান, গোলাম সরোয়ার, মো. খাইরুজ্জামান, মো. মফিজুল হক, মো. মোখলিছুর রহমান, নুরুল হক, মো. রেনু, মো. শাহরিন হক মালিক, মো. সামছুর রহমান, আব্দুল মান্নান, মোখসুদ আহমেদ, মো. সাইদুল হক, মো. মাহতাব চৌধুরী, কাজী হাসিনা আফরুজ, শেখ আশরাফ, লুৎফুর করিম, হাজী মো. কেফায়েতুল্লা, হুমায়ুন কবির, ও ঠিকাদারের সহযোগী ঢাকা সেগুন বাগিচার সারিকা টাওয়ারের ৮ নং বাড়ির মহমুদুল্লার ছেলে মো. ইকবাল মাহমুদ।

মামলায় উল্লেখ করা হয় দুর্নীতি অনুসন্ধানকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, অভিযুক্ত ও সাক্ষীদের বক্তব্য এবং রেকর্ডপত্র মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে পাউবো কর্মকর্তাদের যোগসাজসে প্রতি বছরে বন্যা আসার সময় ও আশঙ্খা অবহিত থাকা সত্বেও মৌলিখ চুক্তি ভঙ্গ করে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের ৮৪ টি প্যাকেজের অসমাপ্ত কাজ নতুনভাবে টেন্ডার আহ্বান না করেই পূর্বের ঠিকাদারগণকে ক্যারিওভারের মাধ্যমে কাজ সমাপ্ত করার অনুমতি দিয়েছেন। এই ঠিকাদারগণ ১৬০ টি প্যাকেজের ৯ টি প্যাকেজের কাজ শুরু না করা এবং ১৫১ টি প্রকল্পের কাজ আংশিক সম্পন্ন করার মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ভবিষ্যতে প্রকল্পের (সরকারী অর্থ) টাকা আত্মসাত করার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন এবং কৃষক ও জনসাধারণের আর্থিক ক্ষতিসাধন করে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২)ধারাসহ দন্ডবিধি ৪০৯/১৬৬/৫১১/১০৯ ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ দেখভালে আসা তদন্তকারী দলের প্রধান দুদক’র সহকারী পরিচালক বেলাল হোসেন মুঠোফোনে বলেছেন,‘দুদক’র তদন্তে আসামীদের সকলের বিরুদ্ধেই প্রাথমিকভাবে দুর্নীতি’র সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত