দেবব্রত চৌধুরী লিটন, ওসমানীনগর থেকে ফিরে

০৪ জুলাই, ২০১৭ ১৬:২৮

একটি বাঁধের কারণেই দুর্ভোগে ওসমানীনগরের ৩০ হাজার মানুষ

সিলেটের ওসমানীনগরে কুশিয়ারা নদী রক্ষা বাঁধে ভাঙ্গনের ফলে উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত রয়েছে। গত এক মাসে তিন দফায় বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে সৃষ্ট বন্যার কারণে পানিবন্দি রয়েছেন ৩০ হাজার মানুষ। দু'দফায় পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়ম রক্ষার কাজ করেও শেষ পর্যন্ত বাঁধটিকে টিকিয়ে রাখতে পারেনি বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।

বন্যাদূর্গত এলাকার বাসিন্দারা জানান, উপজেলার লামা তাজুপুর গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত কুশিয়ারা নদীর পাড়ে সাদিপুর থেকে গালিমপুর পর্যন্ত সাত কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বাঁধ রয়েছে। দুই বছর আগে বাঁধটি নির্মান করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বাঁধটি নির্মানের সময়ই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বাঁধটি নির্মানের সময় কোনো অংশের প্রস্ত ৩০ ফুট, ২০ ফুট উঁচু ছিলো আবার কোনো অংশে এটি ছিলো মাত্র ১০ ফুট উঁচু।

সোমবার (৩ জুলাই) দুপুরে কুশিয়ারা নদী রক্ষা বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা গেল নদী উপচে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকার কারণে চারদিকে তলিয়ে গেছে বিস্তৃর্ণ এলাকা। এলজিআইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধের দুই প্রান্তের মেরামতের দায়িত্ব পালন করলেও স্থানীয়দের দাবি নিম্নমানের সংস্কার কাজ ও বালি মাটি দিয়ে বাঁধ সংস্কারের কারণে প্রতি বছরই এমন ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় এই এলাকার বাসিন্দাদের।

এ বাঁধ দিয়ে ওসমানী নগর উপজেলার সাদিপুর ইউপির লামা তাজপুর, তাজপুর,  সুন্দিকলা, সুরিকোনা, সৈয়দপুর, সাদিপুর, হবিগঞ্জের নবিগঞ্জ উপজেলার গালিমপুর, মাধবপুর, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ফেছি এলাকার মানুষ শুষ্ক মৌসুমে এই ডাইকটি যোগাযোগের সড়ক হিসেবে ব্যবহার করেন।

পুর্ব তাজপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমগীর হোসেন নিম্নমানের কাজ হওয়ার কারনে প্রতিবছরই বাঁধ ভেঙ্গে যায় দাবি করে বলেন, এই বাঁধের কারণে প্রতি বছরই আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। এ বাঁধ পাকা করে মেরামত করলে ভোগান্তি লাগব হবে।

উপজেলার ইব্রাহীমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সৈয়দ শহীদুর রহমান রাজু সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি একদমই কমে যায়। তাছাড়াও বিদ্যালয়ের শৌচাগারগুলো বন্যার কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পরে।

 এ ব্যাপারে পাউবো, সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী  সিরাজুল ইসলাম নিম্মমানের কাজ ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দুই বছর আগে বাঁধটি নির্মান করা হয়। এবার বরাদ্ধ না থাকায় এটি সংস্কার করা যায় নি। এবার বাঁধ ভাঙ্গার খবর পেয়ে ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে বালুর বস্তা, টিনের পাত ও বাঁশ দিয়ে সংস্কার করা হয়েছিলো। তবে শেষ পর্যন্ত ভাঙ্গন ঠেকানো যায়নি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত