০৪ জুলাই, ২০১৭ ১৮:৫৯
ওসমানীনগরের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও স্থায়ী রূপ ধারণ করেছে। এলাকার জলপ্রবাহের মাধ্যম গুলো দখল আর খননের অভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ায় বন্যার পানি নামতে পারছে না। এতে বন্যা দুর্গত হাজার হাজার পরিবারের দূর্ভোগের চিত্র আরো কঠিন আকার ধারণ করছে।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পানিবাহিত রোগ ও ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপ্রতুল ত্রাণ বরাদ্দের কারণে শত শত পরিবার দুই দফা বন্যার পানিতে ভাসমান অবস্থায় জীবনযাপন করলেও সরকারি-বেসরকারি কোন সাহায্য জুটছে না। যার কারণে সর্বত্রই ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।
মঙ্গলবার (৪ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের কলারাই এলাকায় গেলে দেখা যায় গ্রামের অন্তত দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। ঘরের আঙ্গিনা এবং রাস্তাঘাটে হাটু থেকে কোমর সমান পানি রয়েছে। ঘরে পানি থাকায় থাকা খাওয়ার কাজ খাটের ওপর সারতে হচ্ছে । অস্থায়ী চুলা তৈরি করে খাটের ওপরই করতে হচ্ছে রান্না-বান্নার কাজ। শুধু কলারাই নয় উপজেলার ৮ ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে একই অবস্থা বিরাজ করছে।
মধ্য কলারাই গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা রূপেদা বেগম বলেন, ঘরে বাইরে প্রায় ১ মাস ধরে পানি। কিন্তু এই বিপদের সময় কোন সাহায্য আমরা পাচ্ছি না। আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নাই।
সাদীপুর ইউনিয়নের লামা তাজপুর গ্রামের গৃহবধূ সুশেষ বিশ্বাসের স্ত্রী জ্যোৎস্না বিশ্বাস বলেন, আমরা ধনী মানুষ তাই কোন সাহায্য পাই না। চৈত্রমাস থেকে ঘরের বাইরে পানি। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় পানির মধ্যে খেয়ে না খেয়ে আছি। বাচ্চার বাবায় মাছ কয়টা মারলে এগুলো বিক্রি করে নুন ভাত খাই। দীর্ঘদিন পানি থাকায় বসত ঘরটিও নড়বড়ে হয়ে গেছে।
দয়ামীর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই মোশাহিদ বলেন, বর্তমানে ওসমানীনগরের বন্যার পানি নামতে না পারায় স্থায়ী রূপ ধারণ করেছে। এলাকার জল প্রবাহের পথগুলো দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জের অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। দ্রুত পানি নিষ্কাশন করতে হলে এলাকার হাওর, খাল ও নালাগুলো অবৈধ দখল মুক্ত ও খননের ব্যবস্থা করতে হবে।
সাদীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রব বলেন, আমার পুরো ইউনিয়নের মানুষ বন্যা কবলিত। কিন্তু যে পরিমাণ ত্রাণ বরাদ্দ পেয়েছি তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। দুর্গতদের কষ্ট লাগবে জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
গোয়ালাবাজার ইউপির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক বলেন, আমার ইউনিয়নের বর্তমানে সহস্রাধিক পরিবার বন্যা কবলিত অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় ত্রাণ বরাদ্দ নেই।
আপনার মন্তব্য