১৯ জুলাই, ২০১৭ ১২:২০
গ্রামে আলমগীরের পরিবার
সাভারের আশুলিয়ার চৌরাবালি এলাকায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া চার ‘জঙ্গি’র একজন আলমগীর হোসেন। পরিবার বলছে সে যদি জঙ্গি হয় তবে তারাও এর বিচার চান। আলমগীরের বাবা-মা জানিয়েছেন গত চৈত্রে এলাকার ওয়াজ মাহফিলে এসেছিল সে, কিন্তু এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যায় নি, ফোন বন্ধ হয়ে যায়।
আলমগীরের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের হুগলী কৃষ্ণনগর গ্রামে। গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে সে। আলমগীরের দাদা আব্দুল করিম মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলার চিহ্নিত রাজাকার ছিলেন। আর আলমগীরের বাবা আব্দুল হান্নান এলাকায় আদম ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত।
আব্দুল হান্নানের ৫ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান আলমগীর হোসেন। আলমগীর সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে। শেষে আশুলিয়ায় একটি সুতার মিলে চাকুরি নেয়। ওখান থেকেই সে জঙ্গিদের কার্যক্রমে যুক্ত হয়।
আলমগীরের বাবা-মা ‘ছেলে যদি জঙ্গিবাদে যুক্ত হয়ে থাকলে’, দেশের আইন অনুযায়ী তার বিচার দাবি করেছেন।
সুনামগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের প্রত্যন্ত গ্রাম হুগলি কৃষ্ণনগর। আলমগীর হোসেন সিলেট মানিকপুর মাদ্রাসা থেকে কওমি মাদ্রাসায় ৮ম এবং দক্ষিণ সুনামগঞ্জের জামলাবাজ মাদ্রাসা থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা শেষে একই উপজেলার দরগাহপুর মাদ্রাসা থেকে দাখিল সম্পন্ন করে। এরপর ছাতকের হায়দরপুর মাদ্রাসা থেকে আলীম পাস করে। আলিম পাস করে পরিচিত ‘বড় ভাই’ মাধ্যমে ঢাকার আশুলিয়ায় সুতা’র ফ্যাক্টরিতে কাজ নেয় সে। গত মার্চ মাসে সর্বশেষ বাড়ি আসে আলমগীর। জুন মাসেও তার বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে। তবে এরপর থেকে আর যোগাযোগ নেই বাড়ি’র সঙ্গে।
গ্রামের বৃদ্ধ ফয়জুন নূর বলেন, আলমগীরের দাদা আব্দুল করিম ১৯৭১ সালে এলাকার চিহ্নিত রাজাকার ছিলো। আলমগীরের বাবা আদম ব্যবসায়ী। সে মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেছে। গ্রামে তাকে খুবই কম দেখা যেত।
মহিদুল ইসলাম বললেন, ‘আলমগীরের আচরণ ভাল ছিল, সে এ ধরনের কোন অপরাধ কর্মে জড়িত থাকলে বিচার হোক চাই আমরা।’
আশরাফ আহমদ (আলমগীর)’র ছোট ভাই জানায়, আলমগীর পরিবারের অন্যদের সঙ্গে কম মিশলেও সে নিরীহ এবং শান্ত প্রকৃতির ছিল।
আলমগীরের বাবা আব্দুল হান্নান বললেন, ‘১ বছর আগে আশুলিয়ায় সুতার ফ্যাক্টরিতে চাকুরী করতো আমার ছেলে। আমি তার কর্মস্থলে গিয়ে দেখে এসেছি। গত চৈত্র মাসে এলাকায় ওয়াজ মাহফিলে এসেছিল। জ্যৈষ্ঠ (জুন মাসে) মাসেও তার সঙ্গে কথা হয়েছে। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ হয়ে যায়, কোন খোঁজ নাই। তাকে যে নিয়ে চাকুরি দিয়েছিল (এলাকার রসুলপুরের রাসেল) তার মাধ্যমে খবর নিলাম সে আশুলিয়াতেই আছে, আর এখন শুনছি সে জঙ্গি। অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী বিচার হোক চাই আমরাও’।
আলমগীরের বিমাতা আখলিমা বেগমও একই কথা বললেন।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ্ খান জানালেন, আমরা খতিয়ে দেখছি আলমগীরের সঙ্গে জামালগঞ্জের ভীমখালী এলাকায় কারো যোগাযোগ আছে কী-না। কিংবা ঐ এলাকায় এই চক্রের হয়ে কেউ কাজ করে কী-না সেটিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।
আপনার মন্তব্য