৩০ জুলাই, ২০১৭ ১৮:২৬
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের বানেশ্বরপুর গ্রামের সেনা সদস্যের কন্যা রাজিয়া সুলতানা নিপা (৩০) স্বামীর বাড়িতে খুন হওয়ার পর বিচার পেতে পিতা মোহন মিয়া দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এ ব্যাপারে ঘটনার ৪ দিন পর থানায় লিখিত একটি অভিযোগ দিলেও পুলিশ কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ তার।
রাজিয়া সুলতানা নিপার পিতা মোহন মিয়া জানান, গত ১০ বছর আগে বিজয়নগর উপজেলার সেজামুড়া গ্রামের লুৎফুর রহমানের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নাছির উদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে দুটি সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসাবে ৬ লাখ টাকার মালামাল দেওয়া হয়। কিন্তু বিয়ের পর আরও যৌতুক পেতে রাজিয়ার স্বামী নাছির উদ্দিন ও তার মা বাবা রাজিয়ার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। সম্প্রতি যৌতুকের জন্য নাছির উদ্দিন আরও ১০ লাখ টাকা চায় ।এ নিয়ে নিপাকে প্রায়ই মারধোর করা হত।
গত ২৬ জুলাই যৌতুকের জন্য রাজিয়া সুলতানা নিপাকে পিটিয়ে মেরে ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। অপপ্রচার চালায় নিপা আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাবার আগে নিপার স্বামী ও শ্বশুর, শাশুড়ি বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
ময়না তদন্ত শেষে নিপার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হলে মাধবপুর উপজেলার বানেশ্বরপুর গ্রামে দাফন করা হয়।
এদিকে, একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পরে মোহন মিয়া।
মোহন মিয়া জানান, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে পরিকল্পিতভাবে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।এ ব্যাপারে নিপার পিতা হত্যার অভিযোগ এনে ৩০ জুলাই বিজয়নগর থানায় একটি লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিপার বাবার দেওয়া অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেন বলেন এসপি স্যারের সঙ্গে কথা বলে এটি এজাহার হিসাবে গণ্য করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মন্তব্য