১৪ আগস্ট, ২০১৭ ০০:৩৩
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কের নলজুর নদীর ঘোষগাঁও সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।
গত কয়েক দিনের পাহাড়ি ঢল আর অতি বৃষ্টিপাতের কারণে এ্যাপ্রোচের দু'পাশের বিশাল অংশ বিধ্বস্ত হয়ে নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় সেতুটির এ্যাপ্রোচ এলাকায় ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
২০১৩ সালে ১৩ কোটি টাকা ব্যায়ে ১ শত ৩৯ দশমিক ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য’র গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
সেতুটির এ্যাপ্রোচের দু-পাশের প্রায় ৩০ ফুট এলাকা জুড়ে মাটি ধসে গিয়ে নদী গর্ভে বিলীন হতে চলেছে। ধসে যাওয়া দু-পাশের মধ্যবর্তী প্রায় ৬ ফুট প্রস্থের অংশ দিয়ে সিএনজি অটোরিক্সা, টমটম, মোটর সাইকেল, রিক্সা এবং লোকজন আতংকিত অবস্থায় যাতায়াত করছেন। সেতুটি নির্মিত হওয়ায় জগন্নাথপুর উপজেলার দক্ষিনাঞ্চল আশারকান্দি, পাইলগাঁও ও রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে এ সড়ক পথের ঘোষগাঁও সেতু দিয়ে ওসমানী নগর উপজেলার বেগমপুর হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত সহজ হয়।
ঘোষগাঁও সেতুটি নির্মিত হওয়ার পর জনসাধারণ উপকৃত হলেও সেতুটির পূর্বপাড়ের এ্যাপ্রোচের মাটি ধসে নদী গর্ভে বিলীন হওয়া ছাড়াও সেতুটির পশ্চিম পাড়ের সংযোগ সড়কের ভূমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় যাত্রীবাহী বাস এবং মালামাল বহনকারী যানবাহন চলাচল শুরু হয়নি। সেতুটির পশ্চিম পাড়ের এ্যাপ্রোচ থেকে বাদাউড়া নদীর পাড় ঘেসে বিকল্প সংযোগ সড়ক দিয়ে বিপদজনক ভাবে ছোট ছোট যানবাহন এবং লোকজন পায়ে হেঁটে যাতায়াত করছেন।
এ্যাপ্রোচের ঐ স্থানটি বিপদজনক হওয়ায় প্রতিনিয়ত সিএনজি অটোরিক্সা, টমটমসহ বিভিন্ন প্রকারের যানবাহন দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে আসছে। এছাড়াও বাদাউড়া ও নলজুর নদীর প্রবল স্রোতে রাতে সেতুটির আশ-পাশ এলাকার বাড়ি-ঘর ব্যবসা প্রতিষ্টান নদী গর্ভে বিলীন হতে চলেছে।
এদিকে- ঘোষগাঁও সেতুর এ্যাপ্রোচ ছাড়াও ঘোষগাঁও হতে বেগমপুর পর্যন্ত সড়কের প্রতিটি ব্রীজ, কার্লভাট গুলোর এ্যাপ্রোচ ধেবে যাওয়ায় বিপদজনক অবস্থায় যানবাহনগুলো চলাচল করছে।
স্থানীয় টিয়ারগাঁও এলাকার বাসিন্দা জুবায়ের আহমদ, সাজিদুর রহমান শাওনসহ আরও অনেকেই জানান, ঘোষগাঁও সেতুটি নির্মিত হওয়ায় এ অঞ্চলের জনসাধারনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। সেতুটির এ্যাপ্রোচ ধ্বসে যাওয়ায় এলজিইডি কর্তৃক ইতোমধ্যে সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে নদী ভাঙ্গনের ভয়াবহতার কারনে সেতুটির এ্যাপ্রোচ এলাকা বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে। অতি দ্রুত যানচলাচল সচল রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশলী অধিদপ্ততর (এলজিইডি) জগন্নাথপুর উপজেলার কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ঠিকারদারী প্রতিষ্ঠানও ইতিমধ্যে সংস্কার কাজ শুরু করে দিয়েছে।
আপনার মন্তব্য