জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি

০৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৭:৩৫

বিশ্বনাথের কৃষাণ-কৃষাণীদের মুখে এখন মধুর হাসি

অগ্রহায়ণ মাসের শুরুতে যেমন গ্রাম বাংলার মাঠ ঘাট ভরে উঠেছে সোনালী ফসলে। ঠিক তেমনি সিলেটের বিশ্বনাথের গ্রামগঞ্জের হাওর জুড়ে পাকা ধানের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। উপজেলার মাঠে মাঠে সোনালী ধানের সমারোহ দেখে কৃষিজীবী পরিবারের মুখে এখন ফুটে উঠেছে মধুর হাসি।

অকাল বন্যা আর প্রাকৃতিক বৈরিতার ফলে চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষকরা। ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াই আর বোর ধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত থাকায় কৃষাণ-কৃষাণীদের এখন দম ফেলার সময় নেই।

বিগত চৈত্র মাসের অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হন উপজেলার প্রায় ১৩ হাজার কৃষক। সরকারিভাবে কৃষি উপকরণ বিতরণ আর বেসরকারিভাবে সহযোগিতার ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় স্থানীয় ও উন্নত জাতের ধান চাষাবাদ করেন তারা।

বিশ্বনাথ ইউনিয়নের গন্ধার কাপন গ্রামের কৃষক মাস্টার ইমাদ উদ্দিন, মোস্তাব আলী, মুফতিরগাঁওয়ের তালুকদার ফয়জুল ইসলাম, দেওকলসের জগৎপুর গ্রামের কৃষক মধু মিয়া, রামপাশার পুরান গাঁওয়ের আশ্রব আলী ও আব্দুন নূর, দশদলের মাসুক আলীর দাবি, চলতি মৌসুমে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে।

তবে, উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে এ বছর উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ১৩ হাজার ৪১২ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে উপসী ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর ও স্থানীয় ৪ হাজার ৯৯২ হেক্টর, সব মিলিয়ে অর্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ২৮৫ হেক্টর।

অন্য দিকে চলতি বছর ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এ পর্যন্ত প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরোর বীজতলা তৈরি সম্পন্ন করা হয়েছে।

সরকারিভাবে সার ও বীজ বিতরণের ফলে এবার অকাল বন্যার পরও কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে দাবি করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী নূর রহমান বলেন, উন্নত জাতের ‘বিনা-৭, ‘বিআর-১১, ‘ব্রি ধান-৩২,৩৯, ৪৬, ৫১ ও স্থানীয় জাতের বাদাল, জল ডাঙ্গা, জরিসাইল, কালোজিরা, হাসিম, বিরুণ ইত্যাদি জাতের ধান চাষাবাদের ফলে এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।  

আপনার মন্তব্য

আলোচিত