১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৭:৫০
বিয়ানীবাজারে জাল দলিল সম্পাদনকারী এক মুহুরিকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার মো. রফিক উদ্দিন জানান, আমি অভিযোগ পেয়ে দলিল লেখক মামুনুর রশীদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি। এ মামলার অপর আসামি সদ্য দলিল লেখক সনদপ্রাপ্ত এমরান হোসেনের দলিল সম্পাদন কার্যক্রম স্থগিত রাখতে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
বিয়ানীবাজারের পল্লীতে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত সাজিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করে নেয় একটি ভূমি জালিয়াত চক্র। ওই চক্রের বিরুদ্ধে আদালতে দায়ের হওয়া মামলার প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২ ডিসেম্বর সিলেট পিবিআই’র উপ-পরিদর্শক মো. মাসুদ খান আমল গ্রহণকারী আদালত-৫ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের আঙ্গুরা মৌজার জেএল নং ৫৭, খতিয়ান নং ৬৫, ১১৫, ১২৫, ১৬৭ ও দাগ নং ৫৬৮ তে ৪ শতক জমি মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে ক্রয় করা জাল দলিল মূলে নামজারী করান নজরুল ইসলাম। ২৭ আগস্ট ১৮০০/১৭ নম্বর দলিলে ওই ভূমি সাফ কবালা ক্রয় করা হলেও বিক্রেতা আশাব আলী ২০০৫ সালে এবং তাহির আলী গত ১৯৫৮ সালে মারা যান। মৃত ব্যক্তিদ্বয়ের নামে জমি রেজিস্ট্রি করতে সহায়তা করেন দলিল লেখক মামুনুর রশীদ খান।
পরে ওই তফশীলের জমি নিজ নামে নামজারী করে ২৪ সেপ্টেম্বর পুনরায় তা সাফ কবালায় বিক্রি করে দেন ভূমি জালিয়াত মো. নজরুল ইসলাম। ১৯৭২/১৭ নাম্বারের পৃথক দলিল সম্পাদন করেন একই দলিল লেখক মামুনুর রশীদ খান (সনদ নং ৫৭)। পরে এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কথিত দলিলদাতার ওয়ারিশ মো. হোসেন আহমদ সিলেটের আমল গ্রহণকারী আদালত-৫ এ একটি (সিআর ২৪৩/১৭) মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সিলেটের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।
প্রতিবেদনে আঙ্গুরা মোহাম্মদপুরের মৃত মছদ্দর আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (৫৫), জাল দলিলের সাক্ষী ও শনাক্তকারী ঢেউনগর গ্রামের ওয়ারিছ আলীর ছেলে এমরান আহমদ (৪০), কুড়ারবাজার ইউপির ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য মনি মিয়া ওরফে মো. আব্দুল আহাদের ছেলে রাজু আহমদ ওরফে রাজু আলম (৩৯), আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মাহবুবুর রহমান কালা (৪৫), উত্তর আকাখাজনা গ্রামের মৃত মকদ্দস আলীর ছেলে সফরুল ইসলাম, দেউলগ্রাম পাতনের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে দলিল লেখক মামুনুর রশীদ খানকে অভিযুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. নজরুল ইসলাম জানান, আমি কারো কাছ থেকে জমি ক্রয় করিনি। তবে কিছুদিন আগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ৪ শতক জমি বিক্রি করেছি।
স্থানীয় কুড়ারবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের জানান, যে দুই ব্যক্তিকে বিক্রেতা সাজিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করে নেয়া হয়েছে, তারা বহু বছর আগে মারা গেছেন। আমি এ সংক্রান্ত মৃত্যু সনদ ইস্যু করেছি।
আপনার মন্তব্য