২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৯:২৩
নদীমাতৃক বাংলাদেশে বর্ষাকালে নদীভাঙন খুব স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হলেও শীতকালে ভয়ংকর নদীভাঙনের কবলে পড়েছে সিলেটের কুশিয়ারা ও সুরমা নদী তীরের মানুষ।
বরাক নদী থেকে উৎপত্তি লাভ করা দুটি নদীরই উৎসমুখ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অমলসিদ। আর নদীর অববাহিকার অন্যান্য অংশের সাথে উৎসমুখেই হচ্ছে ব্যাপক নদী ভাঙন।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, দুটি নদীর তীরে ভাঙন দেখা দিলেও কুশিয়ারা নদীর অনেক বেশি অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জেলার জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার কমপক্ষে ৫০টি স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
নদী ভাঙনের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পাউবোর দাবি, উৎসমুখ সীমান্তবর্তী হওয়ায় আর সে অঞ্চলের বাংলাদেশ অংশের পাড়ে নদী ভাঙনের কারণে ভূমি হারাচ্ছে বাংলাদেশ। অপরদিকে এ ভূমি ভারতের অংশে জাগার কারণে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অংশে ভারতের ভূমি বাড়ছে, বাংলাদেশের ভূমি কমছে বলেও জানায় পাউবো কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, জকিগঞ্জ পৌরসভা সহ উপজেলার নানা এলাকায় নদী ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থার নেয়ার দাবিতে, 'বাংলাদেশ সংকোচিত হচ্ছে, ভারত সম্প্রসারিত হচ্ছে' ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন জকিগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে পৌরসভা এলাকায় এ মানববন্ধনে জকিগঞ্জ পৌর মেয়রসহ স্থানীয় রাজনীতিবিদ, আইনজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, দুটি উপজেলার কোন কোন স্থানে কী পরিমাণ ভাঙন হচ্ছে, তা ইতোমধ্যে পর্যবেক্ষণ করছে পাউবো। এর ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন প্রদান করে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর ভাঙনে জকিগঞ্জ পৌরসভা এলাকার মাইজকান্দি, সরষপুরিসহ বেশ কিছু এলাকা ও উপজেলার শুক্রাকান্দি, মুন্সীবাজার, বাল্লা, ভক্তিপুর, উজিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় শতাধিক বাড়িঘর, কৃষিভূমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়াও নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে স্কুল, মসজিদ, কবরস্থানসহ নানা স্থাপনা।
জকিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র খলিল উদ্দিন বলেন, নদী ভাঙনের কারণে পৌরসভার বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নদী ভাঙন বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে।
পাউবোর কর্মকর্তারা জানান, নদীর পানি অতিরিক্ত নেমে যাওয়ায় এবং বর্ষাকালে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে এই শীতে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।
জকিগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদুল করিম বলেন, সীমান্তে কোন অবস্থাতেই বালু উত্তোলন হয় না, তবে অন্যান্য অংশে কিছুটা হয়। সেসব বন্ধে প্রশাসন সবসময়ই তৎপর ছিল।
তিনি বলেন, নদী ভাঙন রোধে উপজেলা প্রশাসনের করণীয় কিছু নেই, তবে ভাঙন কবলিত সবকটি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকা মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ সমস্যাটি ঠিক প্রচলিত নদী ভাঙনের সমস্যা নয়, বরং নদীর পাড় ধ্বসে যাওয়া। এ অবস্থায় জরুরী কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, 'ইতোমধ্যে নদী ভাঙন রোধে কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে আর কিছু প্রকল্প পরিকল্পনাধীন রয়েছে। মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণের জন্য সুপারিশ প্রেরণ করা হবে'।
আপনার মন্তব্য