৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৯:৪২
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের আধুয়া গ্রামে গৌছ আলীর পুত্র ফয়জুর রহমান ও তরিক উল্ল্যার পুত্র মুক্তার আলীর পক্ষের লোকজনদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে মৃত আহমদ উল্ল্যার পুত্র সুবরাজ আলী (৫৫), মৃত আব্দুল গফুরের পুত্র আব্দুল মতলিব (৪৫), মৃত ইয়াকুব উল্ল্যার পুত্র জমশেদ আলী (৬০), মৃত আরব আলীর পুত্র আরজদ আলী (৩৮), তার ভাই মখজ্জুল আলী (৩৫), আব্দুল মুক্তারের পুত্র মিফতাউল ইসলাম (২২), মৃত উস্তার আলীর পুত্র হান্নান মিয়া (৪৮), জমশেদ আলীর পুত্র আক্তার হোসেন (২৫), ইয়াকুব উল্ল্যার পুত্র ইউনুছ মিয়া (৬২), আব্দুল জব্বারের পুত্র সিরাজুল ইসলাম (৪৫), তার ভাই কাজল মিয়া (৩০), আব্দুল আজিদের পুত্র নোয়াব আলী (৪৫), আব্দুল বাদশার পুত্র রাজিব হোসেন (৩০), বাটুল মিয়ার পুত্র আনছার মিয়া (৩২) ও মৃত আশিক আলীর পুত্র রুমন মিয়া (২২) কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া জবারক আলীর পুত্র আনফর আলী (৩৪), মৃত আইয়ুব উল্ল্যার পুত্র মন্তেশর আলী (৪৩), মৃত ফজর আলীর পুত্র আজির আলী (৩৫), অরমুছ আলীর পুত্র এমরান মিয়া (২২), মৃত রফিফ উল্ল্যার পুত্র আবুল বশর (৫৫), মৃত ইছমত উল্ল্যার পুত্র শুকুর আলী (২৫), মৃত জবারক আলীর পুত্র আরশ আলী (৫৫), তার ভাই আম্বর আলী (৩৮), লকুছ মিয়ার পুত্র রুমান হোসেন (১২), আরমুছ আলীর পুত্র রিপন মিয়া (৩৩) ও আব্দুর রহিমের পুত্র বশির মিয়া (৫৫) কে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে সুলফির আঘাতে মুক্তার আলীর পক্ষের লোক সুবরাজ আলীর (৫৫) বাম চোখ উপড়ে গেছে। সুলফি ও রামদার আঘাতে সুবরাজ আলী, গুলিবিদ্ধ আব্দুল মতলিব, জমশেদ আলী, মিফতাউল ইসলাম ও আক্তার হোসেনের অবস্থা আশংকাজনক।
সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ মৃত আসদ উল্ল্যার পুত্র আব্দুন নূর (৬০), গৌছ আলীর পুত্র ফয়জুর রহমান (৫৫), আনুছ আলীর পুত্র রিপন মিয়া (৩৩) ও তার ভাই এমরান আলীকে (১৮) গ্রেপ্তার করেছে। সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশের টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রাম পুরুষশুন্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আধূয়া গ্রামের মুক্তার আলীর সাথে একই গ্রামের ফয়জুর রহমানের গ্রাম্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পূর্ব বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে শনিবার সকাল ৯টায় মুক্তার আলীর লোকজন মাঠে গরু চড়ানোর লক্ষ্যে বাড়ি থেকে হাওরে নিয়ে যাওয়ার সময় ফয়জুর রহমানের নিজস্ব রাস্তায় আসা মাত্র ফয়জুর রহমান তার রাস্তা দিয়ে গরু-ছাগল নিয়ে না যাওয়ার জন্য মুক্তার আলীকে বলেন। এ নিয়ে বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ রাউন্ড গুলিবর্ষনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
আপনার মন্তব্য