৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:২৬
২০১৭ সালটি দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছে হাওরবাসীর জন্য। এ বছর অকাল বন্যায় তলিয়ে গেছে হাওরের বিস্তৃর্ণ ফসল। বিষক্রিয়ায় মারা গেছে হাওরের মাছ, গবাদিপশু। বছরজুড়ে সারাদেশেই অন্যতম আলোচিত ছিলো হাওরের ফসলহানি। এরপ্রভাব পড়েছে চালের দামেও।
সঠিক সময়ে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ না করা এবং বাঁধ নির্মানে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে অল্প বৃষ্টিতেই বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে যায় হাওরের বোরো ফসল। নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় হাওরে ঢুকে পড়ে ঢলের পানি। এই অকাল বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাওর বেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জ।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের হিসেবে, এবছর জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৮২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়। এর মধ্যে গত এপ্রিলের অকাল বন্যায় ১৫৪টি হাওড়ের ধান তলিয়ে যায় পানিতে। সরকারি তথ্য বলছে, পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬১২ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৯০ কৃষক পরিবার। তবে বেসরকারি হিসেবে, এ সংখ্যা অনেক বেশি। এছাড়া মারা যায় হাওরের বিপুল সংখ্যক মাছো।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ফসলহারা বানবাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ অবস্থায় ২ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমদ বাদি হয়ে সুনামগঞ্জে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি, অনিয়ম ও কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। এছাড়া ৩ আগষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল হক বাদি হয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের সচিবসহ ১৪১ জনকে আসামি করে জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন।
আইনজীবী সমিতির এই মামলায় মোট ৪৬ জন ঠিকাদারকে আসামি করার পাশাপাশি দুদকের মামলার ৬১ জন আসামিদের সবাই রয়েছে। আদালতের বিচারক আইনজীবী সমিতির অভিযোগ আমলে নিয়ে এই মামলাও দুদককে তদন্তের দায়িত্ব দেন। তবে এই চাঞ্চল্যকর দুটি মামলার কয়েকজন আসামি বাদে অন্য সবাই এখনও পলাতক রয়েছেন। গত ১৫ নভেম্বর সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর হয়ে প্রকাশ্যে ভারতে পালিয়ে যান এই মামলার অন্যতম আসামি ঠিকাদার আবদুল হান্নান।
এই মামলায় ৬১ আসামির মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা রয়েছেন ১৫ জন। তারা হলেন- পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফসার উদ্দিন, সুনামগঞ্জের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দীপকরঞ্জন দাস, সুনামগঞ্জের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী খলিলুর রহমান, সিলেট সার্কেলের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম সরকার, সাবেক অতিরিক্ত প্রকৌশলী মো. আবদুল হাই, সেকশন কর্মকর্তা মো. শহীদল্লা, সেকশন কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ খান, সেকশন কর্মকর্তা খন্দকার আলী রেজা, সেকশন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, সেকশন কর্মকর্তা মো. শাহ আলম, সেকশন কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহ ভুঁইয়া, সেকশন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল করিম, সেকশন কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক, সেকশন কর্মকর্তা সজীব পাল, সেকশন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
অপরদিকে ৪৬জন ঠিকাদার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হলো- গুডম্যান এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটার আফজালুর রহমান, মেসার্স খন্দকার শাহীন আহমেদের প্রোপ্রাইটার খন্দকার শাহীন আহমেদ, মাহীন কন্ট্রাকশনের প্রোপ্রাইটার মো. জিল্লুর রহমান, সজিব রঞ্জন দাসের প্রোপ্রাইটার সজীবরঞ্জন দাস, মেসার্স এলএন কন্সট্রাকশনের প্রোপ্রাইটার পার্থসারথী, মেসার্স হান্নান এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটার হান্নান আহমেদ, মেসার্স নূর ট্রেডিংয়ের প্রোপ্রাইটার খায়রুল হুদা চপল, কামাল হোসেনের প্রোপ্রাইটার কামাল হোসেন, কাজী নাসিম উদ্দিন, খন্দকার আলী হায়দার, মেসার্স আকবর আলীর প্রোপ্রাইটার মো. আকবর আলী, আমিন অ্যান্ড কোংয়ের প্রোপ্রাইটার মো. রবিউল আলম, মেসার্স বোনাস ইন্টারন্যাশনালের প্রোপ্রাইটার মো. আবুল হোসেন, মেসার্স বসু নির্মাণ সংস্থার প্রোপ্রাইটার শিব্রত বসু, মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটার মোজাম্মেল হক মুনিম, মেসার্স ইব্রাহীম ট্রেডার্স অ্যান্ড শামীম আহসানের প্রোপ্রাইটার মো. বাচ্চু মিয়া, মেসার্স এম রহমানের প্রোপ্রাইটার শেখ মো. মিজানুর রহমান, মেসার্স মাহবুব এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটার আবুল মহসিন মাহবুব, মেসার্স মালতী এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটার বিপ্রেশ তালুকদার বাপ্পি, মেসার্স মো. জামিল ইকবালের প্রোপ্রাইটার মো. জামিল ইকবাল, মেসার্স নিম্মী অ্যান্ড মুমুর প্রোপ্রাইটার চিন্ময়কান্তি দাস, মেসার্স নিয়াজ ট্রেডার্স এর প্রোপ্রাইটার নিয়াজ আহমেদ খান, মেসার্স প্রীতি এন্টারপ্রাইজের মিলন কান্তি দে, মেসার্স আর আর ট্রেডিংয়ের প্রোপ্রাইটার খান মো. ওয়াহিদ রণি, ঠিকাদার মো. শোয়েব আহমদ, মো. ইউনুস, মো. আবদুল কাইয়ুম, মো. আতিকুর রহমান, মো. খাইরুজ্জামান, মো. মফিজুল হক, মো. মখলিছুর রহমান, মো. নূরুল হক, মো. রেনু মিয়া, মো. শাহরিন হক মালিক, মো. শামসুর রহমান, আবদুল মান্নান, মোকসুদ আহমেদ, মো. সাইদুল হক, মো. মাহতাব চৌধুরী, কাজী হাসিনা আপরোজ, শেক আশরাফ উদ্দিন, লুৎফুল করিম, হাজী মো. কেফায়েতুল্লাহ, হুমায়ূন কবির ও মো. ইকবাল মাহমুদ।
আপনার মন্তব্য