০১ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৩:৫২
পাঠ্যপুস্তক উৎসবে শিক্ষার্থীরা যেখানে খালি হাতে স্কুলে এসে নতুন বই নিয়ে ঘরে ফিরার কথা সেখানে হবিগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজের ১৬০০ ছাত্রের মধ্যে মাত্র ছয় জন ছাত্র পেয়েছে নতুন বই। বাকী ছাত্রদের ঘরে ফিরতে হয়েছে খালি হাতেই।
পাঠ্যপুস্তক উৎসবের জন্য হবিগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজের মাঠে করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। ছাত্রসহ সকল অভিভাবকদেরও আমন্ত্রণ করা হয়েছে এ অনুষ্ঠানে। সকলের জন্য করা হয়েছে নাস্তারও ব্যবস্থা। এত আয়োজন করেও বই দেয়া হয়েছে মাত্র ছয় জনকে। শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার জন্য আয়োজন করা হয় বই বিতরণী উৎসব। বিদ্যালয়ের ১৬০০ ছাত্রের মধ্যে মাত্র ছয় জনকে বই দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়েছে।
সোমবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১১.৩০ মিনিটে হবিগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজের বই বিতরণী উৎসবের উদ্বোধন করেন হবিগঞ্জ ৩ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব এড.মোঃ আবু জাহির।
এসময় বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি আলেয়া আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জেলা শিক্ষা অফিসার অনিল কৃষ্ণ মজুমদার। অতিথিদের কাছ থেকে বই গ্রহণ করেন বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র স্বপ্নীল গোপ, বিশ্ব দেব, ৭ম শ্রেণীর ছাত্র মোঃ স্বপন, সূর্য মিয়া, ৮ম শ্রেণীর ছাত্র মাসুক মিয়া, রায়হান মিয়া, ৯ম শ্রেণীর ছাত্র ইব্রাহিম খলিল চৌধুরী ও পলাশ মিয়া।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান অতিথির হাত থেকে ছয় জন নতুন বই গ্রহণ করে। অতিথিরা অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করার পর স্কুলের শিক্ষকরা ছাত্রদের ক্লাসরুমে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ছাত্ররা ক্লাস রুমে যাওয়ার পর শিক্ষকগন নতুন বই না দিয়ে পরীক্ষার রেজাল্টশিট ও একটি কমলা সব ছাত্রের হাতে তোলে দেন। এসময় ক্লাসরুমের পাশে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন অভিভাবক।
বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছাত্রের মা পারভিন আক্তার বলেন, ‘বলা হয়েছে নতুন বই দেয়া হবে কিন্তু এখন দেখি শুধু রেজাল্ট শিট দেয়া হচ্ছে।’
একই ক্লাসে অধ্যয়নরত আরেক ছাত্রের মা আনেছা বেগম বলেন, ‘বাচ্চারা আশা করে এসেছে নতুন বই নেয়ার জন্য । আমরা ও সকাল থেকে বাচ্চাদের নিয়ে বসে আছি। এখন বলা হচ্ছে আজ বই দেয়া হবে না।’
অভিভাবকরা বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা মানার জন্য শুধু নাম মাত্র এ ধরনের উৎসব করা হচ্ছে। স্কুলের সকল ছাত্ররা যদি বছরের প্রথম দিন বই না পায় তবে এটা উৎসব কিভাবে হয় বলে প্রশ্ন তোলেন অনেক অভিভাবক।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রাধিকা রঞ্জন দাশ বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক সারা দেশের ন্যায় বই উৎসব উদযাপন করার জন্যই আয়োজন। এত আয়োজন করে স্কুলের সকল ছাত্র আজ বই পাচ্ছে না কেন? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার জন্য এ আয়োজন। অভিভাবক সমাবেশটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া ভর্তি না হয়ে বই নেয়ার কোন নিয়ম নেই। ছাত্ররা নতুন ক্লাসে উঠবে ভর্তি হবে, বেতন দিবে তারপর বই দেয়া হবে।’
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার অনিল কৃষ্ণ মজুমদার বলেন, ‘আজকে সব ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বই তোলে দিতে হবে। কোন অজুহাতে বই না দেয়া যাবেনা। হবিগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজে এ ধরনের ঘটনা হয়ে থাকে তাহলে আমি অত্র প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাস করবো কি কারণে সকল ছাত্র ছাত্রীকে বই দেননি তিনি।’
আপনার মন্তব্য