০৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৬:৪৩
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে তাদের অনুসারীরা। এসময় থানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে তাদের নিবৃত্ত করে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার উপজেলার ৫/৬নং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এমএলএসএস আলী আক্তারকে লাঞ্ছিত করেন উপজেলা ছাত্রলীগনেতা ইফতেহার আহমদ রাজীব। এ ঘটনায় মামলার প্রেক্ষিতে উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি বাবুল মিয়া ও রাজীবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নেতাদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতীলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করলে আন্দোলনকারীরা পিছু হটে যায়।
পরে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের অপসারণ চেয়ে ঝাড়ু মিছিল করে আন্দোলনকারী নেতাকর্মীরা।
ছাত্রলীগ নেতাদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগ নেতা রাজীব যুবলীগ নেতা বাবুল মিয়াকে সাথে নিয়ে স্থানীয় ৫/৬নং বাজার ভূমি অফিসের খাজনা পরিশোধ করতে যান। তখন ওই অফিসের এমএলএসএস আক্তার মিয়া তাদের নিকট ঘুষ দাবি করেন। এরই জের ধরে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে আক্তার মিয়াকে শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করে রাজীব। বিষয়টি তাৎক্ষনিক মিমাংসা করে দেন যুবলীগ নেতা বাবুল মিয়া। ওই ঘটনায় বিকালে বাবুল ও রাজীবকে আসামি করে ইউএনওর সুপারিশে একটি এজাহার বানিয়াচং থানায় জমা দেন পিয়ন আলী আক্তার । বিষয়টি জানতে পেরে সন্ধ্যায় থানায় গেলে এজাহারের প্রেক্ষিতে বাবুল ও রাজীবকে আটক করে রাখে পুলিশ। এ ঘটনা জানাজানি হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যুবলীগ,ছাত্রলীগসহ কয়েকশ নেতাকর্মী বানিয়াচং থানা ঘেরাও করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তখন থানা গেইটের দুটি বাতি ভেঙ্গে যায়।
অবস্থা বেগতিক দেখে ফাঁকা গুলি করতে থাকে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরে নেতাকর্মীরা সটকে পড়েন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বানিয়াচং থানার ওসির অপসারণের দাবিতে ঝাড়ু নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে যুবলীগ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বাজারের গুরুত্বপুর্ণ রাস্তা প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত পথসভায় মিলিত হয়।
সভায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রেখাছ মিয়ার সভাপতিত্বে ও ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল হালিম সোহেলের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়া,প্রচার সম্পাদক আসাদুর রহমান আসাদ,যুবলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম,ছাত্রলীগের সেক্রেটারি এমদাদুল হাছান শাহিন প্রমুখ।
বক্তারা অবিলম্ভে থানাার ওসির অপসারণ ও গ্রেফতারকৃত নেতাদের মুক্তির দাবি জানান। তারা আরো বলেন বানিয়াচং ৫/৬নং ভূমি অফিস সহকারী তহশিলদাল ও তার কর্মচারীরা দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। এর প্রতিবাদ করায় নেতাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, হামলাকারীরা থানার বাতিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। আর এজাহারের পরিপ্রেক্ষিতে দুই নেতাকে আটক করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আপনার মন্তব্য