নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ২০:৪০

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে শহীদ শ্রীকান্তের ম্যুরাল স্থাপনের দাবি

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ শ্রীকান্ত দাস ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজকে গৌরবান্বিত করেছেন। তাঁর নামে ছাত্রাবাসের নামকরণও গৌরবের। কিন্তু তাঁর কোনো পরিচিতি না থাকায় নতুন প্রজন্ম শুধু শ্রীকান্ত নামটিই জানে। তাঁর দেশপ্রেম, যুদ্ধ এবং প্রাণদান-এসব সম্পর্কে অবহিত অবহিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নতুন প্রজন্মের জানার জন্য ছাত্রাবাসে শহীদ শ্রীকান্তের একটি ম্যুরাল ও পরিচিতি থাকা চাই।
 
শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) সিলেটের বিমানবন্দর এলাকার একটি উদ্যানে এমসি কলেজের শ্রীকান্ত ছাত্রাবাস পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এ দাবি জানানো হয়। শুক্রবার সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পুনর্মিলনী হয়। এতে ২০০০ সাল পর্যন্ত ছাত্রাবাসের বাসিন্দা ১৫০ ছাত্রসহ তাঁদের পরিবারের সদস্যরা একাত্ম হয়েছিলেন।

পুনর্মিলনীকে সামনে রেখে শহীদ শ্রীকান্ত দাসের পরিবারের সদস্য, সহপাঠীদের মাধ্যমে প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়। শ্রীকান্তের কোনো ছবি না থাকায় চিত্রশিল্পী দিয়ে শ্রীকান্তের প্রতিকৃতি তৈরি করে শুক্রবার সেটি আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। এ সময় এমসি কলেজের অধ্যক্ষ নিতাই চন্দ্র চন্দ, পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুধাংশু শেখর দাশ, আহবায়ক পুলক কান্তি তালুকদার, সদস্য সচিব অমূল্য কুমার চৌধুরীসহ ছাত্রাবাসের বাসিন্দা প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ম্যুরাল স্থাপনের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এমসি কলেজের অধ্যক্ষ। পুনর্মিলনীর আয়োজকদের বলেন, এ দাবির সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত। যাঁর নামে ছাত্রাবাসের নামকরণ করে প্রতিষ্ঠান গৌরবান্বিত হয়েছে, তার পূর্ণ পরিচয় থাকা দরকার। না হলে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাবে না।' তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই পুনর্মিলনীর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শোভাযাত্রা, বেলুন উড়িয়ে পুনর্মিলনী উদযাপনের পর স্মৃতিচারণায় অংশ নেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যায় অংশগ্রহণকারীদের পরিবারের সদস্যদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় পুনর্মিলনী। দিনব্যাপী আয়োজনের বিভিন্ন পর্ব সঞ্চালনা করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুক্তি লস্কর, অসীম কুমার শর্মা, পার্থসারথি নাগ ও কমলপানি চৌধুরী।

এমসি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শ্রীকান্ত দাসের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার আজমিরিগঞ্জ উপজেলার বদলপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে। ১৯৫২ সালে তাঁর জন্ম। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রীকান্ত পাহাড়পুর স্কুলে থেকে প্রাথমিক; ১৯৬৯ সালে বিরাট এএবিসি হাই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে মেট্রিকুলেশন (এসএসসি) পাস  করেন। ওই বছরই ভর্তি হয়েছিলেন এমসি কলেজে।

কলেজ ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ১৯৭১ সালের ১৭ মে সম্মুখ সমরে শ্রীকান্ত শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে ‘শহীদ শ্রীকান্ত ছাত্রাবাস’ শুধু নামকরণেই মধ্যেই ছিল এতদিন। কোনো দিন স্মরণ করা হয়নি নামের মানুষটিকে। ছাত্রাবাস নামকরণের ৪৬ বছরে প্রতিকৃতি উন্মোচন করে প্রথম স্মরণ-আয়োজন করে ‘শহীদ শ্রীকান্ত ছাত্রাবাস পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদ’।



আপনার মন্তব্য

আলোচিত