ওসমানীনগর প্রতিনিধি

০৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৮:১৪

পূবালী ব্যাংক গোয়ালাবাজার শাখায় গ্রাহক ভোগান্তি চরমে

সিলেটের ওসমানীনগরে পূবালী ব্যাংক গোয়ালাবাজার শাখায় রেমিটেন্স গ্রহণকারী গ্রাহকরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও ধীরগতির কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেমিটেন্স ডেক্স ও ক্যাশ কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা সংগ্রহ করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। বিষয়টি ব্যাংকের গোয়ালাবাজার শাখার ব্যবস্থাপককে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অবগত করার পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি শাখা ব্যবস্থাপক খাদেম মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

রোববার (৭ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে প্রায় শতাধিক গ্রাহককে লাইনে রেখে তিন ক্যাশ কাউন্টারের মধ্যে দুটি ক্যাশ কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা কাউন্টার বন্ধ করে দুপুরের খাবার খেতে চলে যান। দুইটার দিকে খাবার খেয়ে এসে একটি কাউন্টার থেকে টাকা দেয়া শুরু করার কিছু সময় পর অন্য কাউন্টারে থাকা ক্যাশ অফিসার কাউন্টার বন্ধ করে খেতে চলে যান।

রোববার পূবালী ব্যাংক গোয়ালাবাজার শাখায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে পূবালী ব্যাংক গোয়ালাবাজার শাখায় ওসমানীনগর ও এর আশপাশের উপজেলার প্রায় অর্ধশত রেমিটেন্স গ্রাহক ইউরোপ আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের স্বজনদের কষ্টার্জিত পাঠানো টাকা উত্তোলন করতে যান। রেমিটেন্স ডেক্সের দায়িত্ব প্রাপ্ত কতিপয় কর্মকর্তা, ক্যাশ কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও ধীরগতির কারণে সকাল ১০টা থেকে তিনটা পর্যন্ত ৫ ঘণ্টা ব্যাংকে আগত প্রায় অর্ধশত রেমিটেন্স আমানত গ্রহণকারী গ্রাহক ভোগান্তির পর টাকা হাতে পেয়ে ব্যাংক ত্যাগ করেন। এ সময় আগত রেমিটেন্স গ্রহণকারী গ্রাহকসহ অন্যান্য গ্রাহকরা উত্তেজিত হয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেন।

এ সময় ব্যাংকে আগত ভুক্তভোগী রেমিটেন্স গ্রাহক জগন্নাথপুর উপজেলার আনোয়ার খান, আব্দুল কাইয়ুম, ও ওসমানীনগরের উমরপুর ইউপির খাদিমপুর থেকে আগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা গ্রাহক অভিযোগ করেন, সকাল ১১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ব্যাংকে বসে থেকে তাদের স্বজনদের পাঠানো টাকা উত্তোলন করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও কাজে ধীরগতির কারণে এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। ভবিষ্যতে পূবালী ব্যাংক গোয়ালাবাজার শাখায় প্রবাস থেকে টাকা না পাঠানোর জন্য প্রবাসে থাকা তাদের স্বজনদের নিষেধ করবেন বলেও তারা জানান।

পূবালী ব্যাংক গোয়ালাবাজার শাখার ব্যবস্থাপক খাদেম মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের ব্যাংকের কর্মকর্তার সংখ্যা কম থাকায় এমন সমস্যা হচ্ছে। আশা করি ভবিষ্যতে এম সমস্যা হবেনা। এ বিষয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করলে তাদের ক্ষতি হয়ে যাবে এ জন্য সংবাদ না করার জন্য এ প্রতিবেদককে অনুরোধ করেন তিনি।



আপনার মন্তব্য

আলোচিত