০৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৪২
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে বর্গাচাষী সাবাজ মিয়ার আট মাস আগে শুরু করা বস্তায় সবজি চাষে সাফল্য ধরা দিয়েছে তার হাতে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে শুরু করেছিলেন বস্তায় সবজি চাষ।
নিজবাড়ির আঙ্গিনায় বস্তায় মাটি গোবর ও কচুরিপানা দিয়ে মিষ্টি কুমড়ার বীজ লাগান তিনি। কয়েকদিনের মধ্যেই চারা উঠে বাড়তে থাকে মিষ্টি কুমড়ার লতা। তিনি সে সময় ৫০টি বস্তায় মিষ্টি কুমড়ার বীজ লাগান। বর্তমানে তার সাফল্য দেখে উৎসাহী হচ্ছেন গ্রামের বেকার যুবকরা।
জগন্নাথপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে প্রকৃতির যে বিরূপ অবস্থা সেক্ষেত্রে বস্তায় সবজি চাষ বিপ্লব ঘটাতে পারে। কার্তিক মাসে রোপণ করে মিষ্টি কুমড়া মাঘ মাসে বিক্রি করতে পারেন। মাত্র তিন মাসের মধ্যে কম খরচে অধিক লাভ করা যায় এ সবজি চাষে।
বর্গাচাষী সাবাজ মিয়া জানান, অভাবের কারণে পড়ালেখা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারিনি বেশি দূর। খেত খামারে কাজ করে বাবা, মা, স্ত্রী সন্তান নিয়ে কষ্ট করে জীবিকা নির্বাহ করছি। গত এপ্রিলে ফসল ডুবির পর কি করব ভেবে হতাশ হয়ে যাই। সরকারি সহায়তা ও দিনমজুরই করে সংসার চলছিল। কিন্তু মন বলছিল কিছু একটা করি। পরে কৃষি অফিসের পরামর্শে বস্তায় সবজি চাষ শুরু করি। ভাল ফলন আসায় মনটা খুশি।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, বস্তায় সবজি চাষে অনেক সুবিধা রয়েছে। প্রকৃতির বিরূপতার সাথে গাছগুলো স্থানান্তর করা যায়। সাবাজের সাফল্যের পর অনেক বাড়ির ছাদে আমরা বস্তায় সবজি চাষের ব্যবস্থা করেছি।
কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, আমরা সাবাজকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে বড় কৃষকে পরিণত করতে সহায়তা করব।
আপনার মন্তব্য