১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৩:৩২
সুনামগঞ্জের ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে ৮টি ব্রিজের মধ্যে ৬টি ব্রিজই ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে এ ব্রিজগুলো দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে হাজার হাজার যানবাহন।
গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক ১৩ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে থাকা ৮টি ব্রিজ হলো, তেতইখালী ব্রিজ, গড়পাঁড় গ্রামের ব্রিজ, ঝাওয়ার খাড়া ব্রিজ, হাসনাবাদ মাদ্রাসা সংলগ্ন ব্রিজ, মাধবপুর ব্রিজ, শিখা সতেরো’র পাশে লাল ব্রিজ, ছাতক উপশহরের পাশের ব্রিজ ও রহমতভাগ এলাকার ব্রিজ। এর মধ্যে ঝাওয়ার খাড়া ব্রিজ ও লাল ব্রিজ মোটামুটি চলাচলের উপযুক্ত হলেও বাকি ৬টি ব্রিজই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্রিজগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ ব্রিজের ভেতরের অংশের ঢালাই উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোটবড় গর্তের। ব্রিজের পাকা পিলার ও রেলিংও ভেঙ্গে গেছে বেশ কয়েক জায়গায়।
ছাতক উপজেলা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম শিল্প নগরী। আর শিল্পায়িত এ অঞ্চলে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, আকিজ ফ্যাক্টরিসহ একাধিক সরকারি-বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান। আর সিলেট শহর ও পার্শ্ববর্তী সবকটি উপজেলার হাজারো মানুষ কর্মক্ষেত্র হিসেবেই চলাচল করেন এসব রাস্তা দিয়ে। এছাড়াও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েক শত মালবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান চলাচল করে এ রাস্তা দিয়ে।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট অতিক্রম করে ছাতক সড়কে প্রবেশ করার পর বটেরখালের অন্যতম শাখা তেতইখালী খালের উপর একটি ব্রিজ দীর্ঘদিন থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ব্রিজের ভেতরের অংশে রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিজের দু’পার্শ্বের রেলিং ভেঙ্গে গেছে কয়েকবার।
এর মাত্র এক কিলোমিটার পরেই রয়েছে আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ। সেটি গড়গাঁও গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। এখান থেকে প্রায় আরো দু’কিলোমিটার পথ চলার পর ঝাওয়ার খাড়া নামক ব্রিজ। এ ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী হলেও প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে হাসনাবাদ মাদরাসা সংলগ্ন ব্রিজটি চলাচলের প্রায় অনুপযোগী।
এর তিন কিলোমিটার পর মাধবপুর ব্রিজ ও আরো আধা কিলোমিটার পরে শিখা সতেরো’র কাছে অবস্থিত লাল ব্রিজ। লাল ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী হলেও মাধবপুর গ্রাম সংলগ্ন ব্রিজটি অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এ ব্রিজটি যে কোন মুহূর্তে ভেঙ্গে যেতে পারে।
এখান থেকে আরো কিছু দূর অতিক্রম করার পর ছাতক পৌরসভার সীমান্তে প্রস্তাবিত ছাতক উপশহরের কাছে একটি ব্রিজ ও রহমতভাগ এলাকায় অপর একটি ব্রিজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এ সড়কে প্রতিদিন চলা যানবাহনের চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের দু'টি ছাড়া বাকি সবগুলো ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। তবে এর মধ্যে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি হলো মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রিজ। সিমেন্ট বোঝাই বা যাত্রীবাহী যানবাহন এ ব্রিজ পারাপার হচ্ছে খুব ঝুঁকি নিয়ে। দ্রুত কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ব্রিজটি ভেঙ্গে মালবাহী বা যাত্রীবাহী যানবাহন গভীর খালে পড়ে গিয়ে হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সবকয়টি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ ভেঙে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে, আর দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ ব্রিজগুলোর নির্মাণ কাজ শুরু করা উচিত।
ছাতক উপজেলা (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী রমজান আলী জানান, গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক ও দোয়ারাবাজার সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি ব্রিজের ডিজাইন পাওয়া গেছে। ৯টির মধ্যে ৬টি ব্রিজ হবে আরসিসি। টেঙ্গারগাঁও থেকে দোয়ারাবাজার পর্যন্ত অপর তিনটি বেইলি ব্রিজেরও কাজ চলছে। ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টটির প্রস্তাবনা প্রস্তুতি বর্তমানে চলমান আছে। এগুলো পাঠানোর পর ব্রিজগুলোর অনুমোদন হয়ে আসবে। তবে কতদিনের মধ্যে এ ব্রিজগুলোর পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হবে, এ ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে পারেন নি তিনি।
আপনার মন্তব্য