১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৭:৩৮
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মোর্চা, শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি সিলেটের উদ্যোগে ১১টি দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। বিকেল ৩টায় দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান, পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনুপাত প্রথা বিলুপ্তি, পূর্ণাঙ্গ পেনশন চালু ও নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করার দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি সিলেটের সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ মো. সুজাত আলী রফিক। মানববন্ধন কর্মসূচি পরিচালনা করেন শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি সিলেটের আহ্বায়ক বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি সিলেট মহানগর সভাপতি অধ্যাপক মো. আব্দুল জলিল।
বক্তব্য রাখেন শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি সিলেটের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সিলেট জেলা সভাপতি প্রধান শিক্ষক মো. এলাইছ মিয়া, মহানগর সভাপতি প্রধান শিক্ষক মো. খছরুজ্জামান তপাদার, বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম সিলেট মহানগর সভাপতি প্রধান শিক্ষক মো. বাহার উদ্দিন আকন্দ। ‘শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ সুবল চন্দ্র দাস, বাকশিস সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. সালা উদ্দিন বেলাল, বাশিস সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক জনাব আসাদ খান। আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ জাকির হোসেন, অধ্যাপক ফখরুল ওয়াহেদ চৌধুরী, অধ্যাপক শাহজাহান মাসুক, অধ্যাপক আজির উদ্দিন, অধ্যাপক এনামুল হক চৌধুরী সোহেল, অধ্যাপক মো. আবুল ফজল, অধ্যাপক কমর উদ্দিন, অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম অধ্যক্ষ প্রভুরঞ্জন তালুকদার, অধ্যক্ষ নেছার আহমদ, অধ্যাপক ফজর আলী, সংহতি প্রকাশ করেন এডভোকেট আজমল আলী ।
সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ মো. সুজাত আলী রফিক শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণসহ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর দাবির প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করে চলমান আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতিম শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের নিজ নিজ স্বতন্ত্র বজায় রেখে ‘শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি’তে যোগদান ও পরবর্তী কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
শিক্ষক নেতৃবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর উত্তরসূরি আপনি এবং আপনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন, আইসিটি শিক্ষা প্রচলন ও ৭হাজার আইসিটি শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করেছে। ২০১০ সালে ১৬২৪টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ, প্রায় ২৭ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণ হয়েছে। আপনার সরকারই বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীকে জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভূকরণ, বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিটি উপজেলায় একটি স্কুল ও একটি কলেজ সরকারীকরণসহ শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পদ্মাসেতু নির্মাণ, দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করণ, সন্ত্রাস দমন ও দেশের আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নসহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকাকে বক্তারা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং সাথে সাথে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে শিক্ষকদের যৌক্তিক এসকল দাবিও বাস্তবায়িত হবে।
আপনার মন্তব্য