১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০১:৩৯
৪শ’ বছরের পুরনো এই বিলে প্রায় ২শ’ বছর ধরে মাঘের প্রথম দিনে ‘পলো বাওয়া’ হয়। এখন তো আর বিলে নেমে মাছ ধরতে পারবো না, শুধুমাত্র পলো দিয়ে মাছ ধরার আনন্দ উপভোগ করতেই দেশে ফিরেছি।
কথাগুলো বিলের পাড়ে বসা সিলেটের বিশ্বনাথের গোয়াহরির গ্রামের আশি উর্ধ বয়সের প্রবীণ মুরব্বী লন্ডন প্রবাসী হাজী তৈমুছ আলীর। পলো বাওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি হারিয়ে যান সেই ছেলেবেলায়। ১৯৭৫ সালের দিকে অনেক বড় বড় বোয়াল মাছ ধরা পড়তো, তখন কি আনন্দই না হতো। কিন্তু এখন আর সেই মাছ নেই, দেখাও যায় না।
তিনি সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শুধু তিনি নন গ্রামের যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীরাও এ উৎসবে যোগদিতে দেশে ফিরেছেন। প্রায় ৪শ’ বছরের পুরনো এ বিলে প্রায় ২শ’ বছর ধরে বছরের পহেলা মাঘ তারিখে ‘পলো বাওয়া’ হয়।
দুষণ, দখল, ভারট আর প্রাকৃতিক বৈরিতার কারণে বিলিন হচ্ছে খাল বিল। কিন্তু তারপরও উৎসবের আমেজে পালন করছেন এককালের হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন ঐতিহ্য ‘পলো বাওয়া’ উৎসব। সেই আদিকাল থেকেই ‘বড় বিলে’ বছরের পহেলা মাঘ ‘পলো বাওয়া’ উৎসব পালন করেন বিশ্বনাথের দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামবাসী।
এবছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। রোববার (১৪ জানুয়ারি) ‘বড়-বিলে’ হয়ে গেলে চিরায়ত বাংলার সেই ঝপ ঝপা ঝপ ‘পলো বাওয়া’। দিনভর মাছ ধরায় মেতেছিলেন ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ, সকলেই। বাদ পড়েননি গ্রামের প্রবাসীরাও। দেশি-বিদেশী সকলের অংশগ্রহণে ওই মাছ ধরা উৎসব জানিয়ে দিয়েছে বাংলার প্রাচীণ ঐতিহ্য ‘পলো বাওয়া’ উৎসব আজো হারিয়ে যায়নি।
‘পলো বাইছ’ হলেও বড়বিলে ঠেলা জাল, হাতা জাল ইত্যাদি নিয়ে মাছ ধরায় মেতেছিলেন গ্রামবাসী সকলেই। বোয়াল, ষৌল, গজার ও কার্ফু মাছ অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি পাওয়ায় হাঁসি মুখে বাড়ি ফিরেছেন গোয়াহরির ইকবাল হোসেন, তজম্মুল আলী, তাজুল আহমদ, তোফায়েল আহমদ, সিরাজুল ইসলাম, লন্ডন প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম কয়েছ ও সৌদী প্রবাসী মুহিবুর রহমা, বিশ্বনাথের রইছ আলী, সদুরগাওয়ের আব্দুর রবসহ আরও অনেকে।
গোয়াহরি গ্রামের ইউপি সদস্য গোলাম হোসেন বলেন, যুগ যুগ ধরে বড় বিলে পলো দিয়ে মাছ ধরাকে একটি উৎসব হিসেবেই পালন করে আসছি। এটা আমাদের গোয়াহরি গ্রামের একটি রেওয়াজ।
আপনার মন্তব্য