২৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৮:১৩
কেওলার হাওরের প্রায় ২৮৬ হেক্টর জমি দীর্ঘ ১০ বছর পর এখন চাষাবাদের উপযোগী। তাই কেওলার হাওরপাড়ের কৃষকের মুখে ফিরে এসেছে প্রাণবন্ত হাসি।
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রায় ৯০০ হেক্টর ফসলী জমির এই কেওলার হাওর। এক সময় কেওলার হাওরে আউশ, আমন আর বোরো ফসল ফলানো হতো। কিন্তু পানি নিষ্কাশন আর যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় গত দশ বছর ধরে হাওরের অর্ধেক ফসলি জমি কৃষকরা পতিত ফেলে রাখেন। মূলত এ দুটি কারণেই কেওলার হাওরে জমিকে ধান চাষ করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন ওই এলাকার কৃষকরা। এতে করে কৃষকরা শ্রম ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
কৃষকের সেই দু:খ এখন আর নেই, সূচনা হয়েছে নতুন দিনের। কৃষকের মুখে এখন হাসি। এতদিন শুকনো মৌসুমে এই হাওরে যে জমিগুলো অনাবাদী পড়ে থাকতো চলতি বোরো মৌসুমে সেই অনাবাদী জমিতে এলাকার কৃষকরা ধানের আবাদ করেছেন। আর সেই ধান পাকার পর কেটে গোলায় তুলবেন, দুর হবে তাদের এত দিনকার দু:খ কষ্ট। এমনই বুক ভরা স্বপ্ন দেখছেন হাওরপাড়ের মানুষেরা। এখন যেন তাদের আনন্দের আর শেষ নেই।
স্থানীয় এবং কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুম শুরুর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ কেওলার হাওর উন্নয়নের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে হাওরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া উপশি ও খাইজান খালটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩৫০০ ফুট ও প্রস্থে ১৫ ফুট পুন:খনন করা হয়। আর কেওলার হাওরের রুপসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে পূর্ব দিকে লাঘাটা ছড়ার পাড় পর্যন্ত ২০০০ ফুট রাস্তা পুন:সংস্কার করা হয়। এতে হাওরে পতিত জমিগুলো চাষ উপযোগী হয়ে উঠে।
কেওলার হাওরে ঘুরে দেখা যায়, এক সময় ফেলে রাখা হাওরের পতিত জমি সবুজ ধান গাছে ভরে উঠছে। কৃষকরা জমি চাষ দিচ্ছেন। কেউ কেউ ব্যস্ত রয়েছেন বীজতলা থেকে চারা উত্তোলনের কাজে। কেউবা চাষকৃত জমিতে ধানের চারা রোপণ করছেন। বদলে গিয়েছে কেওলার হাওরের চিত্র। বিস্তীর্ণ হাওরের মাঠ জুড়ে এখন শুধু সবুজ ধানের চারা।
স্থানীয় কৃষক গনি মিয়া, জিল্লুল মিয়া, আবুল বশর, জুবায়ের আলী, সিপার মিয়া জানান, তারা আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। চলতি বোরো মৌসুমে তাদের সবাই হাওরে পতিত জমিতে ধান চাষ করেছেন। আর এটা সম্ভব হয়েছে হাওরে পানি নিষ্কাশন আর যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দেয়ায়। এখন তারা অনায়াসেই ঠেলায় করে সার, বীজ নিয়ে হাওরের শেষ সীমানা পর্যন্ত যেতে পারবেন। এতো দিন তাদের জমি পতিত ফেলে রাখতেন। এখন লাঘাটা ছড়া এলাকার কৃষকদের দাবি স্লুইস গেইট নির্মাণের। পাহাড়ি ঢলে উজান থেকে আসা ছড়ার পানির সাথে পলি মাটি এসে কেওলার হাওর ভরাট যেন না হয় তাই বাসুদেবপুরের ভাওরকোনা বিল খননেরও দাবি করেন তাঁরা।
কৃষকরা জানান, শুধু কৃষকরাই লাভবান হবে না এখানে, উৎপাদিত ফসল দেশের কৃষির উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখবে। কেওরার হাওর উন্নয়ন এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। আজ কেওলার হাওরে প্রাণ ফিরে এসেছে। কৃষকরা ধান চাষ করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামছুউদ্দিন আহম্মেদ জানান, এখন থেকে ওই জমিতে বছরে প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপন্ন হবে। পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় এই হাওরে আড়াইশ হেক্টর জমি অনাবাদী থেকে যেত।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, এলাকার এমপি মহোদয়ের প্রচেষ্টায় খালটি খনন করা হচ্ছে। কাজও প্রায় শেষ। খালটি খননের ফলে হাওরের প্রায় ২৮৬ হেক্টর জমি এখন চাষাবাদ করা যাবে। খালে পানি থাকায় এই হাওরে এখন তিনটি ফসলেরই আবাদ হবে। খালটি খননের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদ বলেন, এই খালটি খনন করা এলাকার কৃষকদের প্রাণের দাবি ছিল। খালটি খননের ফলে এই হাওরে এখন মানুষ সারা বছরই তিনটি ফসল ফলাতে পারবে। কৃষকদের উন্নয়নে সর ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। দেশে কৃষি জমি বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনার আলোকেই আমি এলাকায় কাজ করে যাচ্ছি।
আপনার মন্তব্য