৩০ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৮:২৩
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সমগ্র বাংলাদেশে হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকে। সে সময় তাদের হাত থেকে মা-বোনেরা রেহাই পায়নি। এমনকি ৬ বছরের ছোট্ট আজুফা থেকে শুরু করে হাজার হাজার নারীদের উপর পাশবিক অত্যাচার করে।
মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের জনসভায় দেয়া বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি সারা বাংলাদেশে অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে আমাদের বহু নেতাকর্মীদের ওপর তারা অত্যাচার চালায়, কারাগারে নিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে রাখে, অমানবিক অত্যাচার করে, বহু নেতাকর্মীকে গুম করে রাখে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে চেষ্টা করে কিভাবে নির্বাচন ঠেকানো যায়। ২০১৩ সালে ঢাকায় বিএনপি ও জামায়াত ইসলামের নামে রাজনীতি করে মসজিদে বোমা মারে আগুন দেয়, কোরআন শরীফ পুড়ায়।
শেখ হাসিনা বলেন, এই সিলেটে প্রতিনিয়ত কোন না কোন দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকতো। ২০০৪ সালের ১২ জানুয়ারি হযরত শাহজালাল মাজারে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে আহত করা হয়। সে সময় পরপর দুবার গ্রেনেড হামলায় ৯ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করে। আমি ছুটে এসেছিলাম তখন আপনাদের দেখতে।
তিনি বলেন, ৭ আগস্ট আমাদের সাবেক মেয়র কামরানের উপর আক্রমণ করে। আর সেই আক্রমণে আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম মৃত্যুবরণ করে। ৫ আগস্ট নগরীর ২টা সিনেমা হলে বোমা হামলা হয়। ২০০৫ সালের ২রা ডিসেম্বর আবার কামরানের উপর গ্রেনেড হামলা হয়।
তিনি আরো বলেন, ২৪ ডিসেম্বর মহিলা আওয়ামী লীগ অফিসে মিটিং চলাকালীন সময়ে বোমা হামলা হয়। এখনো আমাদের সেই বোনেরা আহত হয়ে আছে। তাদের অনেকেই সেই ক্ষত টেনে নিয়া চলতে হচ্ছে। জোট আমলে তাদের সন্ত্রাসী ক্যাডাররা আমাদের যে সমস্ত নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে। আমাদের আয়ুইব আলি, মিজানুর রহমান কামালি, আব্দুল কুদ্দুস বাবলু, জহিরুল ইসলাম জাহিদ, মো ইব্রাহিম আলী, জামাল আহমেদ, আকবর হোসেন, আকবর সুলতান, শফিকুল ইসলাম ময়না, গোপাল মোহন দত্তসহ অনেক নেতাকর্মীকে বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে হত্যা করেছে।
জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদ সিলেটের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় উক্ত জনসভায় বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ইমরান আহমদ চৌধুরী এমপি, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি, সাবেক এমপি সৈয়দা জেবুন্নেসা হক, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাহের এমপি, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেসার আহমেদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, কৃষিলীগ সভাপতি মোতাহের হোসেন মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, যুব মহিলা লীগ সভানেত্রী নাজমা আক্তার, যুব লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল হক আতিক, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন, স্বাচিবের মহাসচিব ডা. মুরশেদ আহমদ চৌধুরী, শ্রমিকলীগ সভাপতি এজাজুল হক, মহানগর কৃষকলীগের সভাপতি মুমিন চৌধুরী, মহানগর শ্রমিকলীগ সভাপতি এম শাহরিয়ার কবির, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শাহানারা বেগম, জেলা মহিলা লীগের সভাপতি রুবি ফাতেমা ইসলাম, জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামিম আহমদ, যুব মহিলা লীগ নেত্রী জিন্নাত আলম, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক আলম খান মুক্তি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিলেট মহানগরের সভাপতি আফতাব উদ্দিন, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম তুষার।
এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার, হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার ও গাজী বোরহান উদ্দিনের (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন।
মাজার জিয়ারত শেষে বেলা পৌনে ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত সিলেট সার্কিট হাউসে জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্ন-বিরতির জন্য অবস্থান করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বিকাল ৩টায় জনসভাস্থলে উপস্থিত হওয়া প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেয়া শুরু করেন বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে।
আপনার মন্তব্য