৩১ জানুয়ারি, ২০১৮ ২০:২৯
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের ৭২টি পিআইসি এখনো নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ পাননি। উপজেলার ৮৫টি পিআইসির মধ্যে ১৩টি পিআইসির কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব পিআইসি বাঁধ নির্মাণের কার্যাদেশ পাননি তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
অধিকাংশ পিআইসি জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে যদি কার্যাদেশ প্রদান করা না হয় তাহলে পিআইসি কমিটি থেকে অব্যাহতি নেবেন।
জানা যায়, গত বছরের পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নিম্নমানের বেড়িবাঁধ ভেঙে জগন্নাথপুরের সব ক’টি হাওরের আধপাকা সফল পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে নানা কষ্টে জীবনযাপন করতে হচ্ছে কৃষকদের।
এবার বোরো ফসল চাষাবাদের শুরুতেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পড়েন কৃষকরা। হাওর থেকে দেরিতে পানি নামায় শুরু থেকেই বোরো আবাদ ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহের কারণে বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তারপরও কৃষকরা থেমে নেই। বুকে সাহস নিয়ে হাওরে নেমেছেন চাষাবাদে।
এ বছর জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়া হাওরসহ উপজেলার ৮৫টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে প্রায় ৪ কোটি টাকা সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। ৮৫টি পিআইসি’র মধ্যে মাত্র ১৩টি পিআইসি’র কার্যাদেশ পাওয়ায় ওই সব প্রকল্পে কাজ শুরু করেছে।
অপর দিকে ৭২টি পিআইসি এখনো বাঁধ নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ পায়নি। যে কারণে বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হয়নি।
জগন্নাথপুর নলুয়া হাওরের বেতাউকা বেড়িবাঁধের পিআইসি’র সভাপতি জুয়েল মিয়া বলেন, বাঁধ নির্মাণের সঠিক সময় হচ্ছে এখন। কিন্তু নির্মাণের কার্যাদেশ না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে পারছি না। তিনি বলেন, এ সপ্তাহের মধ্যে যদি কার্যাদেশ না পাওয়া যায়, তাহলে পিআইসি কমিটি থেকে অব্যাহতি নেব। কারণ অসময়ে কাজ করা মানে নিজের বিপদ তৈরি করা।
আরেক পিআইসি’র সভাপতি রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য নাজমুল হোসেন বলেন, বারবার সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে আসছি বাঁধের কার্যাদেশ প্রদানের জন্য। তারপরও কোন সুফল পাচ্ছি না। এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যাদেশ না পাওয়া গেছে তিনিও পিআইসি থেকে অব্যাহতি নেবেন বলে জানিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও জগন্নাথপুরের বেড়িবাঁধের কাজের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ফয়জুল্লাহ বলেন, দ্রুত কার্যাদেশ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি এ সপ্তাহে কার্যাদেশ পাওয়া যাবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ জানান, আমি বারবার লিখিতভাবে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি কার্যাদেশ প্রদানের জন্য। এই মুহূর্তে যদি কাজ শুরু করা না যায় তাহলে বিঘ্নিত হতে পারে বেড়িবাঁধের কার্যক্রম।
আপনার মন্তব্য