মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৬:২৩

মেয়ে বিয়ে না দেওয়ায় ‘সমাজচ্যুত’ পরিবার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় একটি পরিবারকে পরিকল্পিতভাবে সমাজচ্যুত করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের চাঁদমারি গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বাদী হয়ে ফারজানা আক্তারের মা লুৎফুন্নেছা শ্রীমঙ্গল থানায় ইউপি মেম্বার নোয়েল মিয়াসহ মো. নূর হোসেন, মো. রফিক মিয়া, মো. ফারুক মিয়া ও মো. সুরাব মিয়াকে আসামি করে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

থানার লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, জুন মাসে গ্রামের মো. নূর হোসেন তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে লুৎফুন্নেছার মেয়ে ফারজানা আক্তারের বিয়ের প্রস্তাব দেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে ও তার মেয়েকে তিনমাস যাবত একঘরে রেখে সমাজচ্যুত রাখা হয়েছে। গ্রামের কেউ তাদের বাড়িতে আসে না, কথা বলে না।

জানা গেছে, এই সকল কারনে মেয়ে ফারজানা আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। এবারের ঈদেও কারো সঙ্গে শরিক হয়ে কোরবানিও দেওয়া হয়নি এই পরিবারের। তিন মাস পর এখন আবার সমাজে তোলার জন্য নূর হোসেন ২০ হাজার টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন লুৎফুন্নেছা।

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীমঙ্গল থানার উপপরিদর্শক এএসআই মো. আল আমীন জানান, তদন্ত শেষ হয়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। যতটা জানতে পেরেছি গ্রামের ১০-১২ জন নাকি একটি কাগজে স্বাক্ষর করে তাদের সমাজচ্যুত করেছে। তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের পর বলা যাবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম বলেন, এমন ঘটনার কথা শুনেছি। সমাজচ্যুত করার বিষয়টি আইনত গর্হিত অপরাধ। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সমাজচ্যুত পরিবারের পাশে থাকবে প্রশাসন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত