১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ২১:৩১
কর্মব্যস্ত যান্ত্রিক জীবনে নতুন বছরের শুরুতে শ্রুতি সিলেট আয়োজন করে পিঠা উৎসবের। সিলেট নগরীর সুবিদবাজারস্থ ব্লুবার্ড স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণ এই উৎসবকে ঘিরে পরিণত হয় মিলন মেলায়। সকাল সাড়ে ৭ টায় শুরু হয় দিন ব্যাপী এই উৎসবের। কুয়াশা ঢাকা নগরীতে হিমেল বাতাসের পরশে চাদর গায়ে জড়িয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন দর্শনার্থীরা। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শুরু হয় পিঠা উৎসবের। দিনব্যাপী এ আয়োজন উদ্বোধন করেন নাট্যব্যক্তিত্ব জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়।
দিনব্যাপী আয়োজনে এবার প্রথম অধিবেশনে ছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিলেট আগমনের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন এতে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীত ও আবৃত্তি শিল্পীবৃন্দ।
পিঠা উৎসব আয়োজনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম। উদ্বোধনী পর্বে আরো উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং মুক্তিযোদ্ধা ভবতোষ বর্মণ রানা, সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি অনুষদের বিভাগীয় প্রধান হিমাদ্রী শেখর রায়, সম্মেলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত ও শ্রুতি সমন্বয়ক সুমন্ত গুপ্ত প্রমুখ।
এসময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রুতি সিলেটের সদস্য সচিব সুকান্ত গুপ্ত। বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি অনুপ কুমার দেব, সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম সেলিম, শ্রুতির সমন্বয়ক সুমন্ত গুপ্ত।
দিন ব্যাপী পিঠা মেলার পাশাপাশি একক ও সমন্বিত পরিবেশনায় সারা দিনই মুখরিত ছিল উৎসব অঙ্গন। এবারের আয়োজন সিলেটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আগমনের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হওয়ায় বিশেষ মাত্রা পায়।
দিনব্যাপী আয়োজনে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করবেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ড. মকবুল হোসেন, মো গোলাম সারোয়ার প্রমুখ আবৃত্তি পরিবেশন করবেন বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী এবং সংগঠক নাজমুল আহসান,মাসুম আজিজুল বাসার, মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম,ফারুক তাহের প্রমুখ।
এছাড়াও কুষ্টিয়া হতে আগত বাউল শিল্পী হাবিবুর রহমান বিশুর পরিবেশেনা এবং বাউল আব্দুর রহমান ও প্রদীপ মল্লিকের পরিবেশনা। সমবেত পরিবেশনায় অংশ নেয় জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ,গীতবিতান বাংলাদেশ, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা, ছন্দনৃত্যালয়, দ্বৈতস্বর, পাঠশালা, দর্পন থিয়েটার, শতভিষা, নগরনাট, একদল ফিনিক্স, মুক্তাক্ষর, সুরের ভূবন, তারুণ্য প্রমুখ। উৎসবে বিষয় ও বিভাগ ভিত্তিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে শিশু কিশোরা।
৩০ টি ষ্টলে শীতের পিঠা - পুলির পসরা সাজিয়ে উৎসবে আগত দর্শনার্থীদের মনোযোগ কাড়ে শ্রুতি সিলেটের আয়োজন। ষ্টল গুলোতে পিঠা খেতে ভিড় জমান নারী পুরুষ সকল বয়সের মানুষ।
শ্রুতি পিঠা উৎসবের সদস্য সচিব সুকান্ত গুপ্তের কাছে এই আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান আবহমান বাংলার ঐতিহ্য নিয়ে যাতে নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠে মানবিক গুন সম্পন্ন মানুষ হয়ে বেড়ে উঠে তার জন্য শ্রুতির এই আয়োজন। লালন, হাসন, করিমের গান গুলোতে মানবতার কথা বলা হয়েছে। শুদ্ধ সংস্কৃতি রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
রাত সাড়ে ৮টায় প্রাণের উচ্ছ্বাস আর বর্ণিল আয়োজনে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় শ্রুতির দিন ব্যাপী পিঠা উৎসবের।
আপনার মন্তব্য