৩১ জানুয়ারি, ২০১৯ ২১:২০
সিলেটটুডেতে সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়েছে উপজেলা প্রশাসনের। অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে পানি পেলো শ্রীমঙ্গলের ১০ হেক্টরে ফসলী জমি।
জাগছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির চালনাধীন সরকারীভাবে নির্মিত স্লুইস গেট দিয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ রাখার কারণে ফসলী জমি বিরানভূমিতে পরিণত হলেও দায় নিচ্ছিলেন না কেউ। উপায়ান্তর না দেখে কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কৃষি জমিতে প্রয়োজনীয় পানি ব্যবস্থাপনের জন্য একটি লিখিত দিয়েও যখন কোন কাজ হচ্ছিলো না তখন গত ২৯ জানুয়ারি 'শ্রীমঙ্গলে পানির অভাবে ১০ হেক্টর ফসলী জমি বিরানভূমি' শিরোনামে সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সংবাদের পর পরই টনক নড়ে উপজেলা প্রশাসনের। সংবাদ প্রকাশের ৩য় দিনের মাথায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে ব্যবস্থা করা হয়েছে পানি। এতে এ ভূমিতে ফসল চাষি কৃষকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
এর আগে সদস্য চাঁদা বকেয়ার অজুহাতে স্লুইস গেট ফেলে রেখে কৃষকদের খেতে সেচের পানি দেওয়া বন্ধ করে রেখেছিলেন জাগছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক। অথচ এ সমিতির সদস্যদের মধ্যে নেই কোন সমন্বয়, হয় না সদস্য সভা, এক কথায় অকার্যকর করে রেখে সমিতিটি চালাচ্ছিলেন দু’জন প্রভাবশালী আছাদ মিয়া ও ইউসুফ মিয়া। তাদের একতরফা, একগুঁয়েমি ও অবৈধ কার্যক্রমে অনাবাদী হয়ে পড়েছিলো ১০ হেক্টর বোরো ধানের খেত। অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে ১০ হেক্টর ফসলী ভূমি পায় প্রয়োজনীয় পানি। যদিও এ পানি কার্তিক মাসে আসার কথা ছিলো কিন্তু তা এসেছে মাঘ মাসে।
এ ব্যাপারে উপকারভোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষক বলেন, ‘ পানি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক ও ইউএনও স্যারকে ধন্যবাদ, আমাদেরকে সাহায্য করার জন্য। বালু ও মাটি ব্যবসায়ীদের স্বার্থে যারা কৃষকদের পেটে লাথি দিতে চেয়েছিলেন তাদেরকেও ধন্যবাদ যে অবশেষে পানি ছেড়ে দিয়েছেন।
জাগছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির প্রভাবশালী নেতা আছাদ মিয়া বলেন, ইউএনও স্যার ও চেয়ারম্যান বাবু বলেছেন, টাকা আমি দেব, তাই পানি ছেড়ে দিয়েছি।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, যতরকম জটিলতাই থাকুক না কেন, তাই বলে যেকোনো অজুহাতে কৃত্রিম জটিলতা সৃষ্টি করে কৃষিকাজ কেউ বন্ধ রাখতে পারবে না। সমস্যা থাকলে সমাধান হবে। আমিসহ শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ভানু লাল রায় ও উপজেলা প্রকৌশলী সঞ্জয় মোহন সরকারকে নিয়ে উপস্থিত থেকে পানি জমিতে ছাড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি এবং শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদে এ ( ফেব্রুয়ারি মাসে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সভা করে সবার সমস্যা শোনে স্থায়ীভাবে প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো জানান, আজ উপস্থিত কৃষক ও গ্রামবাসীরা অবৈধ মাটি বা বালু তোলার বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলেনি বলে জানান।
আপনার মন্তব্য