সিলেটটুডে ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ ২০:৩৩

লেখাপড়ার মাধ্যমে অন্ধত্বকে জয় করতে চায় জগন্নাথপুরের চয়ন

চয়ন তালুকদার এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তার দুই চোখই অন্ধ।। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে।

শনিবার বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা শেষে জগন্নাথপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে থেকে বের হওয়ার সময় চয়ন জানায়, ছোট বেলা থেকেই পড়াশুনার প্রতি তার প্রচণ্ড আগ্রহ। তাই বাবা-মা-ভাই বোন ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় লেখাপড়া শুরু করে সে।

চয়ন বলে, মুখে পড়া মুখস্থ করে সে। আর অন্যকে দিয়ে খাতায় লিখানো হয়। এ কাজে তাকে বেশি সহযোগিতা করে আসছে তার ছোট বোন মৌসুমী তালুকদার। সেও এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। এবারের পরীক্ষায় তাকে লেখায় সহযোগিতা করছে তাদের বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র মাজহারুল ইসলাম। প্রথম বাংলা পরীক্ষা ভালো হয়েছে।

তার বিশ্বাস সে পরীক্ষায় ফলাফল ভালো করবে। লেখাপড়ার মাধ্যমে অন্ধত্বকে জয় করে বাবা-মাকে সংসারে সহযোগিতা করতে চায় বলে জানিয়েছে চয়ন তালুকদার।

জানা যায়, জগন্নাথপুর পৌর শহরের পশ্চিম ভবানীপুর গ্রামের কৃষক নিতাই তালুকদারের ছেলে চয়ন তালুকদার ও তার ছোট বোন মৌসুমী তালুকদার এবার শহরের আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে চয়নের অবস্থান তিনে। জন্ম থেকেই সে অন্ধ। কিন্তু পড়াশুনায় তার আগ্রহ প্রচণ্ড। পরিবারের লোকজনের সহযোগিতায় লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে সে। এ কাজে তাকে বেশি সহযোগিতা করছে তারই সহপাঠী বোন মৌসুমী তালুকদার।

চয়নের বোন মৌসুমী তালুকদার জানান, আমরা ভাই-বোন একই বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিচ্ছি মানবিক বিভাগ থেকে। চয়ন আমার বড়। তার চোখের আলো না থাকলেও তার মুখস্ত বিদ্যা খুবই ভালো। লেখাপড়ায় আমি তাকে বেশি সহযোগিতা করে আসছি। সে মুখস্থ করে মুখে বলে দেয় আমি এবং বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরা তাকে লেখায় সাহায্য করেছি। আমার বিশ্বাস পরীক্ষায় সে ভালো ফলাফল অর্জন করবে।

চয়নকে এবারের পরীক্ষায় তারই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র মাজহারুল ইসলাম খাতায় লিখে দিচ্ছে।

মাজহারুল জানায়, চয়ন তালুকদার অন্ধ হলেও পড়াশুনায় তার আগ্রহ বেশি। তাই আমি তাকে শুধু সাহায্য করছি লেখার মাধ্যমে। চয়ন প্রশ্নপত্রের উত্তর আমাকে মুখে বলে দেয়, আর আমি তা লিখে দেই। আশা করছি, সে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করবে।

চয়নের বাবা নিতাই তালুকদার বলেন, জন্ম থেকেই সে অন্ধ। দুই চোখেই সে দেখে না, কিন্তু পড়াশুনায় অদম্য ইচ্ছা। তার শিক্ষকদের পরার্মশক্রমে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দেই। তাকে সকল সময় তার বোন সহযোগিতা করছে।

আব্দুল খালিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ইচ্ছাশক্তির কাছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিছু নেই। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ার পরও চয়ন এগিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। বোর্ডের অনুমতিক্রমে সে পরীক্ষা দিচ্ছে।

জগন্নাথপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের সহকারী সচিব আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, শ্রুতি লেখক পদ্ধতিতে বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী মাজহারুল ইসলামের মাধ্যমে পরীক্ষা দিচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত