হৃদয় দাশ শুভ, শ্রীমঙ্গল

০৪ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ ২৩:০৮

ইতিহাস গড়তে চান চা শ্রমিক নেত্রী গীতা

শোষণ, বঞ্চনা আর নিগ্রহের কারণে বিভিন্ন সময় সংবাদ শিরোনাম হন চা শ্রমিকরা। নূন্যতম মজুরীতে কাজ করা চা শ্রমিকদের অনেকটা মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়। চা শ্রমিকদের এই বঞ্চনার কথা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তুলে ধরারও লোক নেই।

তাই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর হয়ে কথা বলার আকাঙ্ক্ষা নিয়েই প্রথম বারের মতো সাংসদ হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন গীতা রাণী কানু নামের চা জনগোষ্ঠির এক নারী।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম বারের মতো এ জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে সাংসদ হতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন গীতা রাণী কানু। তার মনোনয়নপত্র ক্রয়ের খবরে পুরো চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে বইছে আনন্দের সুবাতাস।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মহাসংগ্রাম কমিটির আহবায়ক কাঞ্চন পাত্র সূত্রে জানা যায়, নারী নেত্রী হিসেবে গীতা  চা শ্রমিকের অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেন ২০১৪ সাল থেকে, চা বাগানের সমগ্র শ্রমিকের ৭০% নারী শ্রমিকের কল্যাণে ও তাদের অধিকার আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক নারী ফোরাম, বর্তমানে তিনি এ সংগঠনের আহবায়ক হিসেবে নারীদের জন্য কাজ করে চলেছেন। প্রতিদিন ১০২ টাকা হারে মজুরীপ্রাপ্ত জুলেখানগর চা বাগানের এ শ্রমজীবী নারী বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন গীতা রাণী কানু।

ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সংগঠন ‘বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামে’র সহ সভাপতি জিভিশন প্রধান সুছিয়াং সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, চা শিল্প জনগোষ্ঠী ও চা শ্রমিকদের ন্যায্য ভূমি অধিকার আদায়ে শ্রমিকদের নিয়ে মাঠে নামেন ২০১৫ সালে হবিগঞ্জের লস্করপুর ভ্যালীতে। তার সেই অবদান ও প্রতিবাদী রূপের কথা ভুলেনি চা শ্রমিক ও ক্ষুদ্র নৃজনগোষ্টির মানুষেরা, তারাই নিজেরা চাঁদা সংগ্রহ করে দরিদ্র এই নারীর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কেনার জন্য ৩০,০০০  টাকা প্রদান করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে হবিগঞ্জ সিলেটের আসন থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তিনি। তার বাড়ী মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত কুরমা চা বাগানে।

এই নারী নেত্রী আশায় বুক বেঁধেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর।

তিনি সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, "বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চা জনগোষ্ঠীর জনগণের ভোটাধিকার দিয়েছিলেন, তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চা শিল্প অধ্যুষিত জনগোষ্ঠী ও চা শ্রমিকদের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি, না বলা কথা সর্বোপরি নারী সহ সকল মানুষের উন্নয়নের চিত্র ও আরো কিভাবে উৎকর্ষ সাধন করা যায় সে বিষয়ে মহান জাতীয় সংসদে তুলে ধরার সুযোগ দিয়ে অনন্য ইতিহাস তৈরি করবেন এটাই আশা করছি।"

তিনি জোর দিয়ে বলেন, "নির্বাচিত হলে চা বাগান থেকে মাদককে চিরতরে নির্মূল করাই থাকবে আমার নির্বাচনী প্রধান এজেন্ডা, এছাড়া চা শিল্প কেন্দ্রিক সকল দুর্নীতির বিরুদ্ধে অ্যাকশনে নামতে আমি অঙ্গীকারাবদ্ধ।"

এছাড়া, এ আসনের প্রত্যেকটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিকাশে, নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট থাকবেন বলে জানান।

তিনি আরো বলেন, "বর্তমান চলমান উন্নয়নকে আরো বেগবান করতে নারী প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।"

আপনার মন্তব্য

আলোচিত