০৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ ১৭:৫২
সিলেটের প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ে ভ্রমণে আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিরাপদ ভ্রমণ এবং যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অর্থায়নে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে পাহাড়ে ওঠার জন্য গড়ে তোলা হয়েছে একটি বিশাল দৃষ্টিনন্দন সিঁড়ি।
৪০ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে ৭১২ ফুট দৈর্ঘ্য স্থাপিত এই সিঁড়িটি জাফলং সংগ্রাম বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড় থেকে নিচ পর্যন্ত বিস্তৃত। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর আঁচড় আর মজবুত ভিতে গড়ে উঠা এ সিঁড়িটি পর্যটকদের নিরাপদে পাহাড় বেয়ে উঠতে এবং নামতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
পাহাড়ের পাথরময় ছোট বড় গর্ত মাখা মেঠোপথ বেয়ে এতদিন জাফলং বেড়াতে আসা পর্যটকরা উপর থেকে নিচে নামতেন। এতে করে পা পিছলে অনেক পর্যটক আহতের ঘটনা ঘটতো। সরকারের পর্যটন উন্নয়ন পরিক্রমার আওতায় গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে স্থাপিত এ সিঁড়ির সফল বাস্তবায়নে সেই দুর্ভোগ আজ লাঘব হয়েছে। এখন অনায়াসে জাফলং ভ্রমণে আসা নারী-পুরুষ শিশুরা মুহূর্তেই উপর থেকে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামেন।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থেকে আসা পর্যটক আবুল কালাম আজাদ জানান, আমরা সপরিবারে জাফলং বেড়াতে এসেছি। ইতিপূর্বেও আমরা এখানে ভ্রমণ করি। কিন্তু এবারকার জাফলং ভ্রমণ সত্যিই আনন্দদায়ক। আগে পাহাড় নামতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ আর ভোগান্তিতে নিমজ্জিত থাকতে হত। কিন্তু প্রশাসন উদ্যোগে জাফলং বিজিবি ক্যাম্পের কাছে স্থাপিত সিঁড়িটি পর্যটকদের জন্য একটি সহায়ক মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি এই উদ্যোগে সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। সরকারের ইতিবাচক এবং দৃষ্টিনন্দন এ রকম প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সিলেটের পর্যটন আরও প্রসারিত হবে। এতে করে পর্যটক সমাগমও বৃদ্ধি পাবে।
এ ব্যাপারে পর্যটকবান্ধব সিঁড়ির উদ্যোক্তা এবং গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার পাল জানান, পর্যটকদের কষ্ট এবং দুর্ভোগ লাগবে এটা আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অর্থায়নে স্থাপিত এই সিঁড়িটি পর্যটকদের ভ্রমণকারীদের যাতায়াত বিড়ম্বনায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি সিঁড়িতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সৌর প্যানেলও সংযুক্ত করা হবে। জাফলংসহ সিলেটের বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে আসা পর্যটক এবং এখানকার পর্যটন সম্ভাবনায় বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।
সরকারের উদ্যোগের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ব্যয়বহুল এই পর্যটকবান্ধব সিঁড়িটি গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
আপনার মন্তব্য