০৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯ ১৯:৪৩
জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনকপুরে নজরুল বাহিনীর কর্তৃক নির্যাতনের অভিযোগে সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কায়স্থকাপন (ইনামতি) গ্রামের মো. আব্দুছ ছুবহান ।
মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক রিয়াজের সহযোগিতায় একই এলাকার মৃত আব্দুল লতিফের পুত্র নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা নির্যাতন চালিয়ে তার মালিকানাধীন দোকানঘরে ভাংচুর ও লুটতরাজ করেছে। আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করায় এখন তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে মো. আব্দুছ ছুবহান বলেন, ইউনিয়ন অফিসের বাজারে আজিজুর রহমান ছায়াদ আলী মার্কেটে আমার দু’টি দোকান ঘর রয়েছে। প্রায় ৬মাস পূর্বে আমি আমার দোকানকোঠা বর্ধিত করতে গেলে নজরুল ইসলাম ও হোসাইন আহমদ হাসনু, তুতিউর রহমানের পুত্র তাজুল ইসলাম, মৃত নিমার আলীর পুত্র নজমুল ইসলামসহ তাদের সহযোগীরা আমাকে বাধা দেয়।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীসহ এলাকার লোকজনকে নিয়ে আলোচনায় বসে পুলিশ। এতে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় আমি যেন দোকানকোঠা বর্ধিত করতে গিয়ে রাস্তার জন্য ৭ ফুট জায়গা ছেড়ে দেই। তাদের কথা মত আমি জায়গা ছেড়ে দিয়েছি।
ছুবহান আরও বলেন, দু’টি দোকান পরবর্তীতে হাতিডহর গ্রামের আব্দুল মালেক ও হেলাল আহমদকে ভাড়া দেই। এ বিষয়টি আমি পুলিশকে অবগত করি। কিন্তু, গত ৫ জুন ২০১৮ তারিখে রাত অনুমান ১টার দিকে তারা আমার দোকান দু’টিতে ভাংচুর চালিয়ে সবকিছু লুট করে নিয়ে যায়। জকিগঞ্জ থানা পুলিশকে মোবাইলে বিষয়টি জানাই।
এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। (সিআর মামলা নং-১০১/১৮)। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, পুলিশের আইজি, সিলেটের ডিআইজি ও র্যাব-৯ বরাবরে লিখিত অভিযোগও দেন। আদালতের নির্দেশে জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় মামলাটি তদন্ত করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, আদালতে মামলা বিচারাধীন অবস্থায় গত ১৭ জানুয়ারি সকাল ৯টায় কসকনকপুর ইউনিয়ন অফিস বাজারে একটি রেস্টুরেন্ট থেকে ধরে নিয়ে তার উপর নির্যাতন করা হয়। পরে ইউনিয়ন অফিসের বারান্দায় নিয়ে তারা পেছনে হাত নিয়ে বেঁধে রাখে এবং দফায় দফায় নির্যাতনের স্টীমরোলার চলে।
খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানার এক দল পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায়ও তিনি জকিগঞ্জ কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, নজরুল গংরা এলাকায় দাপটের সাথে চলাফেরা করছে। প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। নজরুল ও তার সহযোগীরা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।
তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, যে কোন সময় আমার কিংবা আমার পরিবারের উপর আবারও হামলা চালাতে পারে। তাই নজরুল গংদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমি সিলেটের ডিআইজি, পুলিশ সুপার, র্যাব-৯ সহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আপনার মন্তব্য